আজকাল ওয়েবডেস্কঃ উচ্চ মাধ্যমিকের ফল ঘোষণা হয়েছে  বৃহস্পতিবার সকালে। সাড়ে ১০টা নাগাদ আনুষ্ঠানিক ভাবে ফল ঘোষণা করেছেন উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ সভাপতি পার্থ কর্মকার। এ বার উচ্চ মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় রয়েছেন মোট ৬৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৫৬ জন। ছাত্রী ৮ জন। ফল ঘোষণার পরেই কৃতিদের শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। 

উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম স্থানাধিকারী নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের আদৃত পাল। পঞ্চম স্থানাধিকারী এবং রাজ্যে মেয়েদের মধ্যে প্রথম মেঘা মজুমদার শ্রীরামপুর রমেশচন্দ্র গার্লস হাই স্কুলের ছাত্রী। এই দুই কৃতীকে এ দিন ভিডিও কলে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আদৃতকে বলেন, "তোমার এই ফলে পশ্চিমবঙ্গের সকল মানুষ গর্বিত। তোমার আরও ভাল হোক। আরও উন্নতি কর। আমার অনেক শুভেচ্ছা রইল।" মুখ্যমন্ত্রী কথা বলেন আদৃতের বাবা-মায়ের সঙ্গেও। অভিবাদন জানান তাঁদেরও।  বলেন, "আর কিছুদিনের মধ্যেই আপনার ছেলেকে সচিবালয়ে ডেকে সংবর্ধনা দেব।" কথোপকথনে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতির আশাও করেন আদৃতের বাবা। 

অন্যদিকে, মেয়েদের মধ্যে প্রথম মেঘা মজুমদারকেও শুভকামনা জানান মুখ্যমন্ত্রী। মেঘার বাবা-মা কে বলেন, "আপনাদের মেয়ের ফল পশ্চিমবঙ্গবাসীদের গর্বিত করেছে। আপনারা সুকন্যা তৈরি করেছেন।" 

নিজের ফেসবুকেও সেই ভিডিও সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন শুভেন্দু। লিখেছেন, "ওদের এই অসামান্য সাফল্যে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং একাগ্রতার মাধ্যমে ওরা সমগ্র রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের কাছে এক অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে চলার জন্য ওদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি। আমি আশাবাদী, ভবিষ্যতেও ওরা নিজেদের মেধা ও প্রতিভার মাধ্যমে বাংলা তথা দেশের নাম উজ্জ্বল করবে।"
 
উল্লেখ্য, আদৃতের এই অসাধারণ সাফল্যে খুশির হাওয়া পরিবার থেকে শুরু করে বিদ্যালয় ও গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাজুড়ে। ফল প্রকাশের পর থেকেই নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের ঢল নেমেছে। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, আদৃত অত্যন্ত মেধাবী, শান্ত স্বভাবের এবং নিয়মানুবর্তী ছাত্র। পড়াশোনার প্রতি তার একাগ্রতা ও কঠোর পরিশ্রমই তাকে এই সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিয়েছে।
 
কলা বিভাগ থেকে পড়েই বাজিমাত করেছেন মেঘা। হুগলির শ্রীরামপুরের বাসিন্দা মেঘা। উচ্চ মাধ্যমিক দিয়েছেন শ্রীরামপুর রমেশচন্দ্র রমেশচন্দ্র গার্লস হাই স্কুল থেকে। বরাবর মেধাবী এই পড়ুয়া পরীক্ষায় ভাল ফল করবেন, এমন প্রত্যাশাই ছিল। কিন্তু মেধাতালিকায় স্থান করে নেবেন এবং রাজ্যের লক্ষাধিক পড়ুয়ার মধ্যে মেয়েদের মধ্যে প্রথম হবেন, তা ছিল ভাবনাতীত। স্বভাবতই আনন্দে উদ্বেল মেঘা। আনন্দে ভাসছে তাঁর পরিবার-পরিজন থেকে এলাকাবাসীও। সাধারণত বিজ্ঞান শাখা থেকেই মেধাতালিকায় র‍্যাঙ্ক তালিকা থেকে জায়গা করে নেন পড়ুয়ারা। তবে উচ্চমাধ্যমিকে মেঘার বাংলা, ইংরেজি ছাড়াও ছিল ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান। ভবিষ্যতে ইংরেজি নিয়ে পড়ার ইচ্ছে মেঘার। কলকাতার প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয় যাদবপুর, প্রেসিডেন্সিতেই উচ্চশিক্ষার আগ্রহ। ইউপিএসসি পরীক্ষা দিয়ে আমলা হতে চান মেঘা। স্বাস্থ্য, কৃষি, অর্থনীতি, নারী ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সামগ্রিক উন্নয়নই তাঁর লক্ষ্য। স্বপ্ন দেখেন সমাজ বদলের। 
 
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার পূর্বিনির্ধারিত সময় মেনেই উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশ করেছে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে ফল প্রকাশ করলেন পর্ষদ সভাপতি পার্থ কর্মকার। এ বার উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম দশে রয়েছেন ৬৪ জন পড়ুয়া। পাশের হারের নিরিখে, প্রথম পূর্ব মেদিনীপুর। ওই জেলার ৯৪.১৯ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাশ করেছেন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায়। পাশের হারে জেলার অবস্থান যথাক্রমে-হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা,  হুগলি, নদিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, কলকাতা, পুরুলিয়া। এবারের পরীক্ষায় মোট ৫,৭১,৩৫৫ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ।