আলিপুরদুয়ার, প্রকাশ মণ্ডল: ইংরেজ আমলে ডলোমাইট, চা এবং কাঠ সংগ্রহের জন্য বক্সার রাজাভাতখাওয়া-জয়ন্তী রেলপথ চালু করা হয়। ১৯৮৩ সাল ‘বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প’ মান্যতা পাওয়ার পর থেকে রাজাভাতখাওয়া থেকে জয়ন্তী ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। বক্সা বাঘ বনে বাঘেদের প্রাকৃতিক পরিবেশের কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। প্রায় চার দশক বাদে সেই রেলপথই পুনরুদ্ধারে অর্থ বরাদ্দ করার ঘটনায় শুরু হয়েছে বিতর্ক। ব্যাঘ্র প্রকল্পের মধ্যে দিয়ে যাওয়া সংশ্লিষ্ট ১৫ কিলোমিটার রেলপথ পুনরুদ্ধারের জন্য ১৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রেল। গত শুক্রবার উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল একথা জানিয়েছে। আর তাতেই ডুয়ার্সে জঙ্গলে বন্যপ্রাণীদের বসতের পরিবেশ নিয়ে চিন্তিত পরিবেশকর্মীরা।
বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের উদ্যেশে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের রাজাভাতখাওয়া-জয়ন্তীর রেলপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। রেল পথ সংস্কার হলে আবারও রাজাভাতখাওয়া থেকে জয়ন্তী পর্যন্ত ছুটবে ট্রেন। ওই রেলপথ ঘিরে যে সকল বসতি রয়েছে, তাঁদেরই বা কী হবে। অন্যত্র সরিয়ে দিলে, তাঁদের কোথায় পুনর্বাসন করা হবে। এই বিষয়ে কোনো সঠিক পরিকল্পনা জানায়নি রেল।
জানা গিয়েছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া এই রেলপথ দিয়ে এক সময় টয় ট্রেন চালানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব। রেল সেই প্রস্তাবকেই কার্যকর করতে যাচ্ছে কি না সেটাই এখন দেখার। রেলের এই উদ্যোগে ‘বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প’-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত বিভিন্ন পরিবেশপ্রেমীরা।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের ডিআরএম দেবেন্দ্র সিংহ বলেন, ‘‘রেলপথটি পুনর্নির্মাণের জন্য ১৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এছাড়া আমাদের হাতে কোনো তথ্য নেই। বন দফতরের সঙ্গে এই নিয়ে এখনও কোনো আলোচনা হয়নি। শীঘ্রই এ নিয়ে আলোচনা করা হবে।
রেলের এই বিবৃতির নিয়ে ভোটের মুখে রাজনীতির অভিযোগ তৃণমূল নেতাদের। তাঁদের বক্তব্য, ‘‘রাজাভাতখাওয়া থেকে জয়ন্তী পর্যন্ত রেললাইনটি জঙ্গলে ঘেরা। পর্যটকেরা জঙ্গলের প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে এখানে ছুটে আসেন। এক সময় পর্যটনের স্বার্থে সেখানে ছোট ট্রেন চালানোর প্রস্তাব উঠলেও, তার বাস্তবায়ন হয়নি।’’ এত বছর বাদে হঠাৎ এহেন উদ্যোগে হতবাক সকলে।
এই বিষয়ে আলিপুদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিজ্ঞা বলেন, “ওই রেলপথ ফের চালু হলে এলাকায় অর্থনীতির উন্নয়ন হবে। রাজ্য এবং কেন্দ্র, দুই সরকার মিলে এই আলোচনা করে সকলের ভালর জন্য যা হবে সেই সিদ্ধান্তই নেওয়া হবে।’’
এই বিষয়ে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র আধিকারিক অপূর্ব সেন জানান, তাঁদের কাছে এই মুহূর্তে নিয়ে কোনও তথ্য নেই। রেল থেকে এই সংক্রান্ত কোনও বিষয়ে তাদের জানানো হয়নি।
