আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্য সরকারের দেওয়া শৌচাগার পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এক মহিলাকে ধর্ষণ করার চেষ্টা এবং শ্লীলতাহানির  অভিযোগ উঠল বিজেপির এক পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার একটি পঞ্চায়েত এলাকায়। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত সদস্য দীপঙ্কর দাসকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা , শ্লীলতাহানি , জোর করে আটকে রাখার মতো মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে। ধৃত ওই পঞ্চায়েত সদস্যকে  শনিবার জঙ্গিপুর আদালতে পেশ করা হচ্ছে। 

ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম বলেন, "অত্যন্ত নিন্দাজনক এই ঘটনা। আমরা পুলিশ প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি সঠিক  তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।"

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফরাক্কার নয়নসুখ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা নির্যাতিতা ওই মহিলা শুক্রবার দুপুর নাগাদ দীপঙ্কর দাস নামে ওই পঞ্চায়েত সদস্যের একটি লজে গিয়েছিলেন। দুপুরবেলায় ওই লজে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে দীপঙ্কর ওই মহিলাকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, বিজেপির ওই পঞ্চায়েত সদস্যের প্যান্ডেল তৈরির ব্যবসা রয়েছে। মাত্র কয়েক মাস আগে বিবাহিতা এক মহিলার সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে নতুন করে তাঁকে বিয়ে করেছে দীপঙ্কর। 

নির্যাতিতা ওই মহিলা বলেন, "ফরাক্কা ব্লকের নয়নসুখ পঞ্চায়েতের যে গ্রামে আমার বাড়ি বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য তার কাছাকাছি থাকেন। সেই কারণে তিনি আমার পূর্ব পরিচিত।"
 
নির্যাতিতা জানান, "পঞ্চায়েতের তরফ থেকে শৌচাগারের টাকা দেওয়া হচ্ছে বলে বিজেপির ওই পঞ্চায়েত সদস্য আমাকে  জানিয়েছিলেন। শৌচাগারের টাকা পাওয়ার জন্য উনি  শুক্রবার দুপুরে আমাকে ব্যাঙ্কের পাস বই এবং আধার কার্ড নিয়ে নিজের লজে দেখা করতে বলেছিলেন। পঞ্চায়েত সদস্যকে আমি জানিয়েছিলাম আমার কাছে ব্যাঙ্কের পাসবই সেই মুহূর্তে নেই। তা শুনে বিজেপির ওই পঞ্চায়েত সদস্য শুধু আমার আধার কার্ড নিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে বলেছিলেন।"

নির্যাতিতা ওই মহিলা জানান, "শুক্রবার দুপুর আড়াইটা নাগাদ যখন আমি  ওই ব্যক্তির লজে যাই সেই সময় হঠাৎ করে আমাকে ভেতরে ঢুকিয়ে পঞ্চায়েত সদস্য লজের শাটার বন্ধ করে দেন। এরপর উনি জোর করে আমার শ্লীলতাহানি করেন এবং ধর্ষণ করার চেষ্টা করেন।  আমি বাধা দিতে গেলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দেন। আমি কোনও রকমে চিৎকার চেঁচামেচি করে সেখান থেকে পালিয়ে আসি।"
 
শুক্রবার রাতে নির্যাতিতা ওই মহিলা ফরাক্কা থানায় বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য দীপঙ্কর দাসকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই নির্যাতিতা ওই মহিলার মেডিক্যাল টেস্ট করানো হয়েছে। 

বিজেপির মালদা (দক্ষিণ) জেলার (সাংগঠনিক) সহ-সভাপতি অয়ন ঘোষ বলেন,"আমাদের দল কোনও অন্যায়কে বরদাস্ত করে না। মহিলাদের সঙ্গে কোনও  অন্যায় হলে তিনি যে দলেরই হোক না কেন তাঁর বিরুদ্ধে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবী করছি প্রশাসনের কাছে। আমাদের ভরসা রয়েছে পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করে গোটা বিষয়টির সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।"