আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুর্শিদাবাদ জেলাবাসীকে আর নবাবের দেশের মানুষ বলা যাবে না। মুর্শিদাবাদ জেলার ইতিহাস নতুন করে লেখার দাবি জানিয়ে এবার কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি দপ্তরের মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং সেখাওয়াতকে চিঠি লিখলেন বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র (কাঞ্চন)।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে একদিকে যেমন তিনি জেলার ইতিহাস নতুন করে লেখার দাবি জানিয়েছেন, অন্যদিকে 'আমাদের'কে রাজা শশাঙ্ক এবং গৌড়ে সাম্রাজ্যের লোক যাতে বলা হয় সেই আবেদন তিনি রেখেছেন।
বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র বলেন, ভারতের স্বাধীনতার পর তৎকালীন সরকার এখানকার মানুষের আসল ইতিহাস, শিক্ষা এবং সংস্কৃতি সর্বত্র ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তারা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য এখানকার ইতিহাসকে বিকৃত করে ব্যবহার করেছেন। তিনি আরও বলেন, খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০ অব্দে মগধের নন্দরাজ বংশের অধীনে ছিল বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ। মৌর্য সাম্রাজ্যের অধীনে তাম্রলিপ্ত ছিল তাদের প্রধান সমুদ্র বন্দর। মগধ সাম্রাজ্যের পতনের পর উত্তর ভারতে গুপ্ত সাম্রাজ্যের যখন উত্থান হয় সেই সময় পশ্চিমবঙ্গের বেশিরভাগ অংশেই তাদের শাসন ব্যবস্থা চালু ছিল।
কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রীকে চিঠিতে বিজেপি বিধায়ক লিখেছেন, ৬৯০ অব্দে বঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ এবং বর্তমান বাংলাদেশে গৌড় সাম্রাজ্যের সূচনা হয়। গৌড় সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ যা বর্তমানে মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর ব্লকে অবস্থিত। গৌড় সাম্রাজ্যের পতনের পর পাল এবং সেন রাজ্যের উত্থান হয়। এই দুই সাম্রাজ্যের ভিত্তিভূমি ছিল বঙ্গদেশ। মূলত ১৩ শতাব্দী থেকে বঙ্গে ইসলামিক শাসনের সূচনা হয়। সেই সময় বঙ্গদেশ সহ সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ গজনীর সুলতানের শাসনের অধীনে ছিল। ১৩ এবং ১৪ শতাব্দীতে দিল্লির সুলতান এবং ১৪ থেকে ১৬ শতাব্দী পর্যন্ত বাংলার সুলতানদের অধীনে পশ্চিমবঙ্গ ছিল। ১৬ শতাব্দীতে বাংলার সুলতানদের পতনের পর পশ্চিমবঙ্গ মোগল সাম্রাজ্যের অধীন হয়ে যায়।
বিজেপি বিধায়ক পশ্চিমবঙ্গ এবং মুর্শিদাবাদ জেলার বিস্তৃত ইতিহাস বর্ণনা করে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রীকে নতুন করে ইতিহাস লেখা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তাঁর চিঠিতে অনুরোধ করেছেন। অন্যদিকে বিজেপি বিধায়কের এই চিঠি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, উনি পাগল হয়ে গিয়েছেন এবং অশিক্ষিতের মতো কথা বলছেন। গোটা দেশজুড়ে বিজেপি ইতিহাস পাল্টে দিতে চাইছে। তাই বিজেপির চেলা চামুন্ডা হিসেবে উনি এই ধরনের কথা বলবেন তা স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তব ইতিহাস কখনও বদলানো সম্ভব নয়।
