আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল এক ভিডিও। বক্তব্য রাখছেন বিজেপি নেতার। তাতে তিনি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নেওয়া মহিলাদের ঘরবন্ধি রাখার নিদান দিচ্ছেন, মহিলাদের স্বামীদের। যদিও ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি আজকাল ডট ইন। তবে ভিডিওটি ইতিমধ্যেই নিজেদের সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। নিজের সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিও।
ভিডিওতে সুর চড়িয়ে যে ব্যক্তিকে বক্তব্য রাখতে দেখ গিয়েছে, তিনি কালীপদ সেনগুপ্ত। দাসপুরের নেতা, বিজেপি রাজ্য কমিটির সদস্য। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কী বলতে শোনা গিয়েছে তাঁকে? শোনা গিয়েছে-
'এখনও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়া মায়েরা আছেন, যাঁরা জোড়া ফুলে ভোট দিতে যাবেন, আমি সেই সমস্ত পরিবারের স্বামীদের বলছি, ওই মায়েদের ঘরে বন্দি রেখে দেবেন। ভোটটা দিতে হবে পদ্মফুলে, জোড়া ফুলে নয়।' এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, গত ভোটে তৃণমূলের 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্প গেমচেঞ্জারের কাজ করেছিল, ভোটের ময়দানে।
অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস ওই ভিডিও শেয়ার করে লিখেছে, 'দাসপুরে বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য কালীপদ সেনগুপ্তের তালিবানি ফতোয়া- লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়া মহিলাদের নাকি ঘরে বন্দি করে রাখতে হবে! এটাই বিজেপির আসল নারী-বিদ্বেষী রূপ। যারা মুখে ‘নারী শক্তি’র কথা বলে, তারাই আজ মা-বোনেদের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে চায়। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতায়নকে ভয় পেয়ে বিজেপি এখন নারীদের ঘরবন্দি করার জঘন্য নিদান দিচ্ছে। মা-বোনেদের অপমান করার স্পর্ধা এরা পায় কোথা থেকে? বিজেপির এই মধ্যযুগীয় বর্বরতার যোগ্য জবাব আগামী নির্বাচনে বাংলার মা-বোনেরাই দেবেন!'
ভিডিওটি শেয়ার করেছেন অভিষেক ব্যানার্জিও। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পয়েন্ট ধরে লিখেছেন, বিজেপির বাংলা বিরোধিতার ধাপ। অভিষেক লিখেছেন-
' ধাপ ১: নির্বাচন কমিশনকে হাইজ্যাক করে SIR পরিচালনা করুন, বৈধ ভোটারদের গণহারে মুছে ফেলুন।
ধাপ ২: যখন তাতেও ফলাফল উলটো হয়, তখন জোরপূর্বক নাম মুছে ফেলার জন্য 'যৌক্তিক অসঙ্গতি' র কথা বলুন।
ধাপ ৩: যখন তাও ব্যর্থ হয়, তখন সামন্ততান্ত্রিক এবং পুরুষতান্ত্রিক বর্বরতায় স্বামীদের তাঁদের স্ত্রীদের ঘরে আটকে রাখার নিদান দেন, যাতে লক্ষ্মীর ভান্ডার দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত মহিলারা ভোট দিতে বেরোতে না পারেন।
বিজেপি ক্ষমতা দখলের দিন লক্ষ্মীর ভান্ডার বাতিল করার হুমকি দিয়েছে। উপহাস করেছে, বাংলার হিন্দুরা মাত্র ৫০০ টাকার জন্য "নিজেদের বিক্রি করে"। তারা নারীদের সরাসরি সাহায্যকে "ভিক্ষা" বলে চিহ্নিত করেছে। এবং এখন তারা প্রকাশ্যে নারীদের কষ্টার্জিত ভোটাধিকারকে হুমকি দিচ্ছে কারণ তাদের ভোট বিজেপির নির্বাচনী সম্ভাবনাকে নষ্ট করতে পারে। যাদের বন্দি করতে চাও, তারাই ২০২৬ সালে লক্ষ লক্ষ ভোটকেন্দ্রে মিছিল করে তোমাদের বাংলা-বিরোধী, নারী-বিরোধী, পিছয়ে যাওয়া রাজনীতির অবসান ঘটাবে।'
