মিল্টন সেন, হুগলি, ২৭ জানুয়ারি: প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে সামিল প্রথম সারির সকল নেতাই। দলের অন্দরে গজিয়েছে একাধিক গোষ্ঠী। কে মেটাবে? নাজেহাল বিজেপি। সামান্য সরস্বতী পুজোর দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিজেপির দুই নেতার বিবাদ এবার প্রকাশ্যে। বচসা পৌঁছল ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি পর্যন্ত। রাস্তায় ফেলে যুব মোর্চার সভাপতিকে মারধরের অভিযোগ উঠল প্রাক্তন বিজেপি জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে। অবস্থা সামাল দিতে জেলা সভাপতির উদ্যোগে ডাকা প্রথম বৈঠক ভেস্তে গেলেও, মঙ্গলবার পুনরায় ডাকা হয়েছে বৈঠক।

ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার। চুঁচুড়া ময়দান সংলগ্ন সরস্বতী পুজো ‘‌সহজপাঠ’‌–কে কেন্দ্র করে। ওই পুজোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বর্তমান যুব মোর্চার জেলা সভাপতি রাজীব ঘরামী। বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় ওই পুজোয় বিজেপি রাজ্য সম্পাদক দীপাঞ্জন গুহকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে। ওই পুজোর প্রতিষ্ঠাতা প্রাক্তন বিজেপি জেলা সভাপতি সুবীর নাগ। দু’‌জন বিজেপি করলেও সুবীর নাগ এবং দীপাঞ্জন গুহর মধ্যে সম্পর্ক খুবই খারাপ। এদিকে দীপাঞ্জন বাবুকে আমন্ত্রণ সংক্রান্ত বিষয়ে কোনও কিছুই জানানো হয়নি সুবীর বাবুকে। ওদিকে আমন্ত্রণ পেয়ে পুজোয় হাজির হন দীপাঞ্জন বাবু। কিছুক্ষণ সেখানে থাকেন। পুজো উদ্যোক্তাদের তরফে দীপাঞ্জন বাবুকে পরের দিন ভোগ বিতরণ অনুষ্ঠানে থাকার অনুরোধ জানানো হয়। রাজি হয়ে সেখান থেকে চলে আসেন দীপাঞ্জন। খবর পৌঁছয় সুবীর নাগের কানে। সঙ্গে সঙ্গে দলবল নিয়ে তিনি সেখানে পৌঁছে জানার চেষ্টা করেন কে দীপাঞ্জনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এই নিয়ে রাজীব ঘরামীর সঙ্গে শুরু হয় বচসা। বচসা থেকে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। যুব মোর্চার সভাপতিকে ধাক্কা মেরে রাস্তায় ফেলে দেন সুবীর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। দুই তরফে ঘটনাটি জানানো হয় বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বকে। খবর পৌঁছয় জেলা বিজেপি রাজ্য কমিটির সদস্য তথা জেলা বিজেপির ইনচার্জ ভাস্কর ভট্টাচার্য এবং জেলা সভাপতি গৌতম চ্যাটার্জির কানে। ভাস্কর বাবু শনিবার বিকেলেই দুই পক্ষকে বসিয়ে সমাধানের লক্ষ্যে বৈঠক ডাকেন। জেলা অফিসে বৈঠকে ভাস্কর বাবু হাজির হলেও সুবীর নাগ উপস্থিত হয়েছেন শুনে বাকি সকলেই গরহাজির থাকেন। এমনকি জেলা সভাপতিও আসেননি। ভেস্তে যায় বৈঠক। পুনরায় মঙ্গলবার বিকেলে বৈঠক ডাকা হয়েছে। তবে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে সুবীর নাগের অনুপস্থিতিতে। 


উল্লেখ্য, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে কার্যত কয়েক খণ্ডে বিভক্ত জেলা বিজেপি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, কার্যত একে অপরের ছায়া পর্যন্ত মারাচ্ছেন না। শুধু চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রেই প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন একাধিক বিজেপি নেতা। রয়েছেন প্রাক্তন জেলা সভাপতি সুবীর নাগ, বর্তমান জেলা সভাপতি গৌতম চ্যাটার্জি, রাজ্য সম্পাদক দীপাঞ্জন গুহ, বিজেপি নেতা তথা মতুয়া সংঘের সভাপতি মৃণাল বিশ্বাস, রাজ্য বিজেপি নেতা স্বপন পাল এবং আইনজীবী মৃন্ময় মজুমদার। ওদিকে সপ্তগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ার তালিকা অনেকটাই লম্বা। শোনা যাচ্ছে জেলা বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ, স্বরাজ ঘোষ, রাজকমল পাঠক, জয়রাম পাল, মিলি গুহঠাকুরতা, বিশ্বনাথ ঘোষ, সোমনাথ মৈত্র এবং রাজকুমারী কেশরীর নাম। এরা সকলেই জেলা বিজেপির ধারক বাহক হলেও নির্বাচনের আগে বর্তমানে প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা গোষ্ঠী। চলছেনও আলাদা। প্রচারও করছেন আলাদা আলাদা। কেউ কাউকে মানছেন না। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে ফ্লেক্স ব্যানার সর্বত্র আলাদা আলাদা করে নিজেদের বিজ্ঞাপন করছেন সকলেই। পরিস্থিতি সম্পূর্ণই জেলা বিজেপির নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। আর সরস্বতী পুজোর ঘটনায় সুবীর ও দীপাঞ্জনের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপি কর্মীদের নানান বিদ্রুপ ছড়িয়ে পড়েছে।