আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে প্রাপ্য সরকারি পেনশন না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক মহলের চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও সিপিআই(এম) নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। সম্প্রতি তাঁর সাংসদ পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি রাজ্যসভার সচিবালয়কে চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি এই আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করবেন না। বিকাশব বাবুর সাফ কথা, তাঁর এই পেনশনের প্রয়োজন নেই, তাই তিনি তা নেবেন না। তবে তাঁর এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের অন্দরে ও বাইরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

সাধারণত বামপন্থী দলগুলোতে সংসদীয় ভাতা বা পেনশন সরাসরি দলের তহবিলে জমা দেওয়ার রীতি রয়েছে, যা থেকে পরবর্তীতে দলের সর্বক্ষণের কর্মীদের পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। মহম্মদ সেলিম বা সুজন চক্রবর্তীর মতো নেতারা এই নিয়ম মেনে চললেও বিকাশবাবু সরাসরি সরকারি কোষাগারেই টাকাটি ফিরিয়ে দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন। দলের একাংশ মনে করছেন, এই দুর্দিনে পেনশনের টাকাটি পার্টি তহবিলে এলে তা কর্মীদের কাজেই লাগত। অন্যদিকে, সামাজিক মাধ্যমে তাঁর অনুগামীরা একে ত্যাগের এক 'বিরল দৃষ্টান্ত' হিসেবে দেখছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে লড়ছেন এই প্রবীণ নেতা। তাঁর জমা দেওয়া নির্বাচনী হলফনামা থেকে জানা যাচ্ছে, পেশায় আইনজীবী বিকাশরঞ্জনের মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১৪ কোটি টাকারও বেশি। যদিও তাঁর নিজের নামে কোনও স্থাবর সম্পত্তি বা বাড়ি নেই, তবে তাঁর স্ত্রীর নামে থাকা সম্পত্তির পরিমাণও নেহাত কম নয়। ২০২৫ সালে ৭২ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি অডি গাড়ি কেনা নিয়েও তাঁর জীবনযাত্রা নিয়ে ইদানীং কিছু মহলে আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে সবকিছু ছাপিয়ে নির্বাচনের মুখে তাঁর এই পেনশন ত্যাগের সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা নিয়ে বাম কর্মীদের মধ্যেও উদ্দীপনা চোখে পড়ছে।