আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তানের জেলে ভারতীয় মৎস্যজীবীর রহস্যমৃত্যু। মৃত পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা‌ স্বপন জানা। জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরের উত্তর কাঁথি বিধানসভার পাইকবার গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন তিনি‌। তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। গ্রামের এই মৎস্যজীবীর মৃত্যু ঘিরে উত্তাল গোটা এলাকা। 

জানা গিয়েছে, দুই বছর আগে মাছ ধরতে গিয়ে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সীমা অতিক্রমের অভিযোগে পাকিস্তানের জল নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছিলেন তিনি। তারপর থেকেই অজ্ঞাতপরিচয় বন্দিশিবিরে কাটছিল তাঁর দিন।

স্বপনের পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে কিছুই জানায়নি পাকিস্তান। বন্দিদশায় তাঁর স্বাস্থ্য, খাদ্য কিংবা নিরাপত্তা বা তিনি কী অবস্থায় ছিলেন, সেই সম্পর্কেও কিছু জানা যায়নি। তাই হঠাৎ এই  মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক রহস্য, উঠেছে প্রশ্নচিহ্ন।

বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বপনের পরিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একযোগে তাঁর দেহ ভারতে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে পাকিস্তানের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দেহ হস্তান্তরের জন্য কূটনৈতিক আলোচনাও চলছে।

এই কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা মৎস্যজীবী উন্নয়ন সমিতির চেয়ারম্যান আমিন সোহেল। তিনি নিজে স্বপনের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়েছেন এবং সমস্ত রকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা যায়। তাঁর কথায়, “স্বপন রানা আমাদের সমাজের একজন পরিশ্রমী মৎস্যজীবী ছিলেন। পরিবারের পাশে আমরা আছি এবং থাকবও।”

মৃত্যুর খবর স্বপনের গ্রামে এসে পৌঁছনোর পর গ্রাম জুড়ে রয়েছে শোকের আবহ। প্রতিবেশীদের দাবি, শান্ত ও সৎ মানুষ ছিলেন স্বপন। তাঁর এমন অস্বাভাবিক মৃত্যু স্থানীয়দের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও দুঃখের সৃষ্টি করেছে।