আবু হায়াত বিশ্বাস: এসআইআর ইস্যুতে কাল সুপ্রিম কোর্টে জোরালো সাওয়াল করবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর ইস্যুতে পথে নেমে আন্দোলনের পাশাপাশি আইনি লড়াই চালাচ্ছে বাংলার শাসকদল তৃণমূল। খোদ তৃণমূল নেত্রী নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন সুপ্রিম কোর্টে। বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চে তাঁর দায়ের করা মামলার শুনানি হবে। সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতির কোর্টের শুনানি তালিকায় ৩৭ নম্বরে রয়েছে মমতার দায়ের করা মামলাটি। জানা গিয়েছে, মামলার শুনানিতে স্বয়ং মামলাকারী মমতা উপস্থিত থাকবেন প্রধান বিচারপতির এজলাসে। করবেন সওয়ালও। সূত্রের খবর, আদালতে ইন পারসন উপস্থিত থেকে এসআইআর ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যুক্তি পেশ করতে পারেন তিনি।
সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত আরও একটি মামলা করেছিলেন কবি জয় গোস্বামী। তাঁর দায়ের করা মামলাটিরও শুনানি হবে বুধবার। জয় গোস্বামীর দায়ের করা মামলাটি শুনানির ক্রম তালিকায় ৩৬ নম্বরে রয়েছে। মমতা সুপ্রিম কোর্টে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে মামলা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে জেড প্লাস ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পান মমতা। কোনও ভিভিআইপি সুপ্রিম কোর্টে গেলে, তার জন্য আগে থেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্র নিতে হয়। ইতিমধ্যে সেই ছাড়পত্রও মিলে গিয়েছে বলে সূত্রের খবর।
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চে বুধবার মামলাটির শুনানি হবে। মমতা এর আগে এসআইআর প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেছিলেন। তাঁর সর্বশেষ অন্তর্বর্তীকালীন আবেদনে তিনি জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এবং সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন হিসেবে তিনি সুপ্রিম কোর্টের শিষ্টাচার ও পদ্ধতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। প্রতিষ্ঠিত নিয়ম অনুযায়ী নিজেকে পরিচালিত করার অঙ্গীকার করছেন।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারা যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন, সে সম্পর্কে তিনি অবগত। তাই এই প্রক্রিয়াটিকে রিট পিটিশনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। তিনি যুক্তি দিয়েছেন, তাঁর ব্যক্তিগত উপস্থিতি মামলাটির নিষ্পত্তিতে আদালতকে সহায়তা করবে। এছাড়াও, নির্বাচন কমিশনের জারি করা একাধিক নির্দেশ বাতিল করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তিনি আদালতের কাছে আবেদন করেছেন যাতে আদালত নির্দেশ দেয়, এসআইআর-এর পর সংশোধিত ভোটার তালিকার পরিবর্তে বর্তমান ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।
প্রসঙ্গত, মমতা কলকাতার যোগেশ চন্দ্র চৌধুরী কলেজ অফ ল থেকে আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। আইনজীবী হিসেবে তিনি শেষ কাজ করেছেন ২০০৩ সালে।
