মিল্টন সেন, হুগলি: হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য আর কলকাতার বড় হাসপাতালে ছুটতে হবে না। এবার থেকে হৃদরোগের অত্যাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা মিলবে ভদ্রেশ্বর পুরসভা পরিচালিত অঙ্কুর হাসপাতালে। সেটাও আবার স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে অথবা ইএসআই কার্ডে। অর্থাৎ নিখরচায় হবে হৃদরোগের চিকিৎসা। 

ধুমধাম করে হল হাসপাতালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। অথচ আওয়াজ পৌঁছলো না রাস্তা পর্যন্ত। কারণ জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে অনুষ্ঠান হলেও, বাজলো না কোনও লাউড স্পিকার। অনুষ্ঠান পরিচালনা থেকে ঘোষণা, বক্তৃতা সবই হল খালি গলায়। উপস্থিত শতাধিক মানুষ মন দিয়ে সেটা শুনলেনও। 

মঙ্গলবার কলকাতার চার্নক হাসপাতালের সহযোগিতায় অঙ্কুর হাসপাতালে স্থাপন করা অত্যাধুনিক ক্যাথল্যাবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। উপস্থিত ছিলেন ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তী, সদস্য প্রকাশ গোস্বামী, চার্ণক হাসপাতালের এমডি প্রশান্ত শর্মা, চন্দননগর পুর নিগমের মেয়র রাম চক্রবর্তী, ডেপুটি মেয়র মুন্না আগরওয়াল, মহকুমা শাসক আশুতোষ কুমার, এসিপি সোমনাথ ব্যানার্জি প্রমুখ। 

প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি অত্যাধুনিক হাসপাতালে উপভক্তাদের স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এবং ইএসআই কার্ডের মাধ্যমে নিখরচায় চিকিৎসার সুবিধে মিলবে। অনুষ্ঠানের পরিচালক তথা ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তী বলেছেন, এতদিন অঙ্কুর হাসপাতাল মূলত অর্থপেডিক চিকিৎসার জন্য বিখ্যাত ছিল। অন্যান্য চিকিৎসাও হত। তবে হৃদরোগের চিকিৎসার তেমন কোনও বিশেষ ব্যবস্থা হাসপাতালে ছিল না। তাই রোগীদের কলকাতায় স্থানান্তর করা ছাড়া উপায় ছিল না। 

আশেপাশে রয়েছে একাধিক জুটমিল। শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকায় এই হাসপাতালের অবস্থান। ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তী আশাবাদী ইএসআই এবং স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে, নিখরচায় চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকায় উপকৃত হবেন সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষ। চার্ণক হাসপাতালের এমডি প্রশান্ত শর্মা বলেছেন, অত্যাধুনিক ক্যাথল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। যে ক্যথল্যাবের সুবিধে সাধারণত কলকাতার প্রথমসারির হাসপাতালগুলিতে পাওয়া যায়। এবার থেকে আইসিইউ কার্ডিওলজির যাবতীয় সুবিধে পাওয়া যাবে অঙ্কুর হাসপাতালে। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন বলেছেন, একটা অবাস্তবকে বাস্তব রূপ দিয়েছে ভদ্রেশ্বর পুরসভা। কার্যত যেটা মাত্র পাঁচ মাসে অসম্ভব, সেটাকেই বাস্তব রূপ দেওয়ায় পুরসভাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হাসপাতালের উদ্বোধন। বিষয়টা যথেষ্টই বড় ব্যাপার। সাধারণত এই ধরনের অনুষ্ঠান মাইক বাজিয়ে লোকজন জড়ো করে ধুমধাম করে হয়ে থাকে। আমরা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা এভাবেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করে থাকি না করতে ভালবাসি। এখানে সবই হল। উদ্বোধনের আড়ম্বর কমল না। কিন্তু আওয়াজ হাসপাতাল। চত্বরের বাইরে পৌঁছলনা। মাইক ছাড়াই গোটা অনুষ্ঠান হয়ে গেল। মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে। রাজ্যের মুখ্য মন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নিদের্শ কোনও ভাবেই পরীক্ষার্থীরা বিরক্ত হয় এমন কাজ করা যাবে না। লাউড স্পিকারের আওয়াজে অসুবিধে সৃষ্টি হতে পারে, তাই সেটাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানুষের সুবিধে অসুবিধের কথা ভাবেন। তাই গত ১৫ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে রাজ্য জুড়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত। ২০১১ সালের ২০ মে প্রথমবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। দ্বিতীয়বার তিনি শপথ নিয়েছিলেন ২০১৬ সালের ২৭ মে। এবং তৃতীয়বার তিনি মুখ্য মন্ত্রী হয়েছিলেন ২০২১ সালের ৫ মে। এবার চতুর্থবার তিনি মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন। আগামী মে মাসে পুনরায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। তার পরে আবার সকলকে নিয়ে মাইক বাজিয়ে বড় করে এই হাসপাতালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে।