আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুড়িগঙ্গা নদী পারাপার। ঘন জঙ্গল, বাঘ, কুমির, সাপের ভয়। সেই ভয় আর আতঙ্ক নিয়েই দীর্ঘদিনের পারাপার। সেখানকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি সেতু। এবার সেই সেতুর শিলান্যাস করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সেতু হয়ে গেলে, গঙ্গাসাগরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যে আমূল পরিবর্তন আসবে, তা বলাই বাহুল্য।
সোমবার বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'কপালকুণ্ডলা'র নবকুমারের সাগর সঙ্গমে পথ হারানোর কথা মনে করিয়েই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বোঝালেন, কেন এই সেতু তৈরি লক্ষ্য সরকারের। ১৭০০ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বহুপ্রতীক্ষিত সেতুর শিলান্যাস করেই পয়েন্ট ধরে ধরে উল্লেখ করলেন, এই সেতু তৈরি হয়ে গেলে, সেখানকার মানুষের কোন কোন সুবিধা হবে।
১২-১৫ জানুয়ারি গঙ্গাসাগর মেলা। কোটি কোটি পূণ্যার্থীর সমাগম হবে সাগর পাড়ে। ঠিক তার আগেই এবং অবশ্যই ২০২৬-এর ভোটের আগেই মুখ্যমন্ত্রীর এই সেতু-শিলান্যাস তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিকভাবেও।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, 'আজকে আমি নিজেকে অন্তত একটু হলেও বাংলার মানুষের জন্য, সারা বিশ্বের পর্যটকদের জন্য, পূন্যার্থীদের জন্য, গঙ্গাসাগরের জন্য, সুন্দরবনের অত্যন্ত প্রত্যন্ত অঞ্চল-সহ সকলের জন্য গর্ব বোধ করছি। আমরা মুখে বলি না, কাজে করি। গঙ্গাসাগর সেতু, দীর্ঘদিনের এখনকার মানুষের দাবি। দীর্ঘদিনের মানুষের যন্ত্রণা।' সেখানকার মানুষের জল পেরিয়ে আসা নিত্যদিনের কাজ। একদিকে বাঘ, অন্যদিকে কুমির, অন্যদিকে সাপ, অন্যদিকে জঙ্গল, অন্যদিকে লঞ্চ, অন্যদিকে নৌকো, মৎজীবী। তাঁদের জন্যই সেতু। মুখ্যমন্ত্রী এদিন সভামঞ্চ থেকেই ঘোষণা করেন, 'গঙ্গাসাগর সেতুর আজকে শিলান্যাস করে, কাজের দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া হল এলএনটি'কে। তারা টেন্ডার পেয়েছে। ১৭০০ কোটি টাকা খরচ করে, রাজ্যসরকার আপনাদের উপহার দিচ্ছে। যাতে আর দু-তিন বছরের মধ্যে গঙ্গাসাগর সেতুটি তৈরি হয়ে যায়।' সঙ্গেই জানান, 'ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হল গঙ্গাসাগর সেতুর। মুড়িগঙ্গা নদীতে কাকদ্বীপের লট ৮ ও কচুবেড়িয়ার মধ্যে হচ্ছে এই সেতু। লম্বায় ৫ কিলোমিটার, চার লেনের অত্যাধুনিক সেতু।'
সেখানকার মানুষের কী কী সুবিধা হবে এতে? মুখ্যমন্ত্রী বললেন-
স্থানীয় তিন লক্ষ মানুষের যাতায়াতের সুবিধা হবে।
ব্যবসার সুবিধা হবে।
যোগাযোগ উন্নত হলে জিনিসপত্রের দাম কমবে।
কর্মসংস্থান হবে।
প্রসার হবে শিক্ষার।
স্থানীয় কৃষিজাত পণ্য অল্প খরচে পৌঁছে যাবে শহর অঞ্চলে।
পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছনো সম্ভব হবে, উদ্ধার কার্য হবে সহজ।
গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে সরকারের তৎপরতা এদিন উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই জেলায় তাঁর জমানায় সরকারের কাজের খতিয়ানও তুলে ধরেন তিনি। এদিন ১০০ ডরমেটরি বেডের 'সাগর কন্যা'র উদ্বোধন করেন, সঙ্গেই ২০টি আরও নতুন ট্যুরিজম কটেজ 'গঙ্গান্ন'র কথাও ঘোষণা করেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, 'আজকে প্রায় সব মিলিয়ে ২৩২৪কোটি ৩০ লক্ষ টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন এবং শিলান্যাস করা হল শুধু এই জেলার জন্য। রাস্তা-ব্রিজ-নিকাশি প্রকল্প-পানীয় জল-স্বাস্থ্য প্রকল্প- জেটি-অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র-বিদ্যুৎ-সহ বিভিন্ন।' আজকের এই সভা থেকে সরাসরি সহায়তা পেয়েছেন বহু মানুষ, সেকথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
