মিল্টন সেন, হুগলি, ২০ ফেব্রুয়ারি: এবার বাংলাতেও মাছ–মাংস বন্ধের হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপি নেতা। 


বাংলায় নির্বাচন এখনও ঘোষণা হয়নি। এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপি নেতার হুঁশিয়ারি, ক্ষমতায় এলে বাংলায় বন্ধ হবে মাছ–মাংস। বিজেপি নেতার এই ভিডিও ভাইরাল হতেই জেলা সদর চুঁচুড়ায় চরম বিতর্ক দানা বেঁধেছে। পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, যারা বলছে একথা, আগামী নির্বাচনে বুঝতে পারবে কত ধানে কত চাল। যদিও বিজেপি নেতার দাবি, তাঁর বক্তব্য নাকি বিকৃত করা হয়েছে। 

চুঁচুড়ার বিজেপি নেতা সপ্তর্ষি ব্যানার্জি ওরফে রাম। সম্প্রতি তার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। যদিও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি আজকাল ডিজিটাল। ওই ভিডিওয় তাঁকে বলতে শোনা যায়, ক্ষমতায় এসে বিহারে মাছ–মাংস খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে বিজেপি সরকার। এখানেও বিজেপি ক্ষমতায় আসীন হলে মাছ–মাংস বন্ধ হয়ে যাবে।
 
সম্প্রতি বিহারের এনডিএ সরকার খোলা জায়গায় মাংস বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। একমাত্র লাইসেন্স আছে যাদের তারা এই ব্যবসা করতে পারবেন। তাও ঢাকা জায়গায় তারা মাংস বিক্রি করতে পারবেন। এই প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অরিন্দম গুঁইন বলেছেন, ‘‌কথায় আছে মাছে ভাতে বাঙালি। এটা বিহার নয়। যারা বলছে মাছ–মাংস বন্ধ করে দেবে, তারা আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বুঝতে পারবে কত ধানে কত চাল। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপি নেতা স্পষ্ট বলছেন বিহারে হয়েছে, বাংলাতে বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ–মাংস বন্ধ হবে। মানুষ বুঝিয়ে দেবে বাংলায় মাছ–মাংস বন্ধ করার ফল।’‌

যদিও সপ্তর্ষি দাবি করেছেন, তাঁর ভিডিওটি বিকৃত করা হয়েছে। তিনি কখনও বলেননি মাছ–মাংস বন্ধের কথা। তৃণমূলের নেতারা বিহারের নির্দেশিকাকে ভুল ব্যাখ্যা করে মানুষের কাছে ভুল বার্তা দিচ্ছে। সেই কারণেই তিনি ভিডিওটি বানিয়েছিলেন। সেখানে তিনি নাকি বলেছেন, স্বাস্থ্যকর জায়গায় যাতে মাছ–মাংস বিক্রি হয়। যেমনটা হয় মিষ্টির দোকানে। পরিবেশ সচেতনতার জন্য যত্রতত্র খোলা জায়গায় যাতে মাছ–মাংস বিক্রি না হয় তার জন্যই তিনি বলেছেন। বিজেপি নেতার দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস নাকি বাঙালি অস্মিতাকে নিয়ে রাজনীতি করতে চাইছে।