বিউ সরকার

মঙ্গলবার গভীর রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগণার বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্তের পুলিশি ‘এনকাউন্টার’-এ মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নিমানের সময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল অভিযুক্ত। তখনই পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনায় বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “সরকার কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। কোনও অপরাধীকে ছেড়ে রাখা যাবে।”।

বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বারুইপুর প্রসঙ্গে শমীক বলেন, “সরকার কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। কোনও অপরাধীকে ছেড়ে রাখা যাবে না। কোনও রাজনৈতিক আশীর্বাদে কেউ পার পাবেন না। এই ঘটনা সেটা প্রমাণ করল”

একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে তাঁর আবেদন, “কামদুনি-কাণ্ডে রাজ্য সরকার যে ভাবে তদন্ত করেছিল, মুষ্টিমেয় কয়েকজনকে তোষণের জন্য নির্যাতিতা বিচার পাননি। বেকসুর খালাস হয়ে গিয়েথিল কোর্ট থেকে, তার ফাইল আবার খোলা হোক।”

নির্বাচনী ইস্তেহারে বিজেপির তরফে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল ধর্ষকদের রেয়াত করা হবে না। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে শমীকের বক্তব্য, “মানুষ পদ্মফুল প্রতীক দেখে বিজেপিকে ভোট দিয়েছিল। সরকার গঠন হয়েছে। এখন সেটা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকার, রাজ্য সরকারের মতো কাজ করবে। যা যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তা পূরণ করা হবে।” 

বারুইপুরে ষষ্ঠ শ্রেণীর পড়ুয়া ১২ বছরের এক নাবালিকাকে গণধর্ষণের পর খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার তদন্তে একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। পুলিশের দাবি, প্রভাস মণ্ডল সেই ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্যই তাঁকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ১২টা নাগাদ তাঁখে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পুলিশের অভিযোগ, ঘটনার পুনর্নিমাণের সময় প্রভাস পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পালানোর সময় পুলিশ প্রথমে তাঁকে ধাওয়া করে। ধরতে না পারলে পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এরপর বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রভাসকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।