আজকাল ওয়েবডেস্ক: বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুন ঘটনায় এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল জাতীয় মহিলা কমিশন। স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করেছে কমিশন। গোটা বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া, রাজ্য পুলিশের ডিজিপি-র কাছে আগামী সাত দিনের মধ্যে একটি বিস্তারিত 'অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট' তলব করেছে জাতীয় মহিলা কমিশন।
জাতীয় মহিলা কমিশনের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং পকসো আইনের উপযুক্ত ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে ডিজিপি কমিশনকে রিপোর্ট দেবে। পাশাপাশি, এই জঘন্যতম অপরাধের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা এবং তদন্তের অগ্রগতি কোন স্তরে রয়েছে, তাও রিপোর্টে উল্লেখ থাকতে হবে।
এছাড়া গত রবিবার ধর্ষণ ও খুনের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বারুইপুরের বিস্তৃর্ণ এলাকাজুড়ে গণহিংসা এবং গণপিটুনির ঘটনা ঘটে।এই বিষয়টিকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে জাতীয় মহিলা কমিশন। ধর্ষণ-খুন পরবর্তী সময়ে গণপিটুনির ঘটনার তদন্তের গতিপ্রকৃতি এবং এই হিংসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে তাও জানতে চেয়েছে কমিশন।
স্থানীয়দের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার তদন্তে পুলিশের কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নাবালিকার দেহের ফরেন্সিক পরীক্ষা ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়াও অত্যন্ত নিখুঁত, স্বচ্ছভাবে করার কথা বলেছে জাতীয় মহিলা কমিশন।
কঠিন এই সময়ে শোকবিহ্বল পরিবারকে মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং, আইনি সাহায্য, আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে কিনা, তাও জানাতে বলা হয়েছে কমিশনকে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে, মহিলা এবং নাবালিকাদের ওপর হওয়া যে কোনও ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে জাতীয় মহিলা কমিশন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলে। বারুইপুরের ঘটনায় দ্রুত, নিরপেক্ষ এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে, প্রশাসনকে বার্তা দেওয়া হয়েছে।
বন্ধুর জন্মদিনের উপহার কিনতে গত শনিবার বিকেলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল বারুইপুরের নাবালিকা। অনেক্ষণ বাড়ি না ফেরায় পরিবার নিখোঁজ ডায়েরি করে। রাতেই সিসিটিভি ফুটেজে চার জনের সঙ্গে ওই নাবালিকাকে দেখা যায়। তবে, রবিবার সকালে ধবধবি ও সূর্যপুর স্টেশনের মাঝামাঝি একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই ঘটনার জেরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ জনতা দেহ রাস্তায় রেখে বিক্ষোভ দেখায়। পরে গণপিটুনিতে এক সন্দেহভাজনের মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার-সহ তিন জন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও তিন জন আটক। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গোটা ঘটনার তদন্ত করছে।
বারুইপুর কাণ্ড নিয়ে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, পাশবিক এই ঘটনায় রাজ্যের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি অনুযায়ী বিচারপ্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করবে। আজ, মঙ্গলবার তিনি বারুইপুর পুলিশ সুপারের দপ্তরে গিয়ে তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন। ভবানীভবনে দেখা করতে পারেন নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে।















