আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ এলাকায় একটি লেভেল ক্রসিং-এ ট্রেনের সঙ্গে স্কুল গাড়ির সংঘর্ষের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫। মৃতদের মধ্যে চারজন স্কুল পড়ুয়া এবং একজন সাধারণ পথচারী রয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় আহত আরও চারজন বর্তমানে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে দু'জনের আঘাত গুরুতর বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।
এই দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, “আজ সকালে মুর্শিদাবাদে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। নিহত তরুণ শিক্ষার্থীদের পরিবার, বিশেষ করে তাদের বাবা-মায়ের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল।”
তিনি আরও লিখেছেন, “অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না। রেলের গেটম্যানকে রাজ্য পুলিশ ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে এবং আমি আশ্বাস দিচ্ছি যে, যারা দায়ী বলে প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পাওয়া পর আহত এবং মৃত ছাত্রছাত্রীদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছন রাজ্যের মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক আর অর্জুন, পুলিশ সুপার সচিন মক্কর-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকেরা।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গৌরীশঙ্কর বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত এবং আহতদের সব চিকিৎসার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। মর্মান্তিক এই ঘটনায় আমরা সকলেই শোকাহত। চিকিৎসক দলের পক্ষ থেকে আহতদের সুস্থ করার জন্য সব রকম চেষ্টা করা হচ্ছে। মৃতদের জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ৫ লক্ষ টাকা এবং কেন্দ্রের রেল মন্ত্রকের তরফ থেকে আরও ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি আহতদেরকেও ২.৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।”
রাজ্যের মন্ত্রী বলেন, “আহত অবস্থায় চারজন এখন মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের মধ্যে দু'জনের আঘাত তেমন গুরুতর নয়। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি গেটম্যানের ভুলে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে।”
জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে ফারহানা বেগম (৭) এবং জেসিকা শবনম (৮) নামে দুই ছাত্রীর। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনায় আহত এবং নিহত ছাত্রীছাত্রীরা সকলেই রাঙামাটি-যদুপুর এলাকায় অবস্থিত রয়্যাল একাডেমি নামে একটি বেসরকারি স্কুলে পড়ত।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন ইসহানুর রহমান (৫ ) এবং তামান্না পারভিন (৭) নামে আরও দুই ছাত্রছাত্রীর মৃত্যু হয়। স্কুলের গাড়িটি যখন রেললাইন পার করছিল সেই সময় জামশেদ আলি (৫৫) নামে কান্দির ডাবকই এলাকার এক বাসিন্দাও রেললাইন পারাপার করছিলেন। দুর্ঘটনায় তিনিও গুরুতর জখম হয়েছিলেন। দুপুরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁরও মৃত্যু হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় আনিসা খাতুন নামে এক ছাত্রী এবং ওই গাড়ির চালক সাহেব শেখ গুরুতর জখম হয়েছেন। তারাও বর্তমানে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনায় জখম বিশ্বেশ্বর মণ্ডল এবং শামিমা খাতুন নামে আরও দু’জনের কর্ণসুবর্ণ হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল। উন্নততর চিকিৎসার জন্য দুপুরের পর তাঁদের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
দুর্ঘটনায় মৃত তামান্না পারভিনের এক আত্মীয় আবু সেলিম আহমেদ বলেন, “দুর্ঘটনার ঠিক আগে গাড়িটি গোবিন্দপুর থেকে রাঙামাটি-যদুপুর এলাকায় স্কুলের দিকে যাচ্ছিল। কর্ণসুবর্ণ এবং জীবন্তী হল্ট স্টেশনের মধ্যবর্তী একটি রেলগেটে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। একটি ট্রেন চলে যাওয়ার পর গেটম্যান গেটটি খোলার পর কেন ফের তা নামিয়ে দিল তা আমরা বুঝতে পারছি না”
















