আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের রাজনীতিতে দেখা দিল বড়সড় নাটকীয় মোড়।
তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের নেতা আরাবুল ইসলাম দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। শোনা যাচ্ছে, তিনি আইএসএফের দিকে ঝুঁকছেন।
সূত্রের খবর, সোমবার ফুরফুরা শরিফে গিয়ে আইএসএফের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করতে পারেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, আরাবুল ইসলামের দলবদল ভাঙড় তথা দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক সমীকরণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
দল ছাড়ার প্রসঙ্গে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন আরাবুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় মমতা ব্যানার্জি যখন ২৬ দিন অনশন করেছিলেন, সেই সময় আমি প্রতিদিন সেখানে ছিলাম। ভাঙড় থেকে দু’তিন গাড়ি করে লোক নিয়ে যেতাম। পার্থদার সঙ্গে প্রায় ২১ বার সেখানে গিয়েছি। সেই সময় দু’বার পার্থদার গাড়ির উপর গুলি চলেছিল। আমরা গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলাম। সেই পরিস্থিতিতে এই দল করেছি। অথচ আজ সেই দল আরাবুল ইসলামকে চিনতে পারল না। পাঁচবার কেস খেয়েছি, তিনবার বহিষ্কার হয়েছি। সেই কারণেই মনের দুঃখে তৃণমূল থেকে ইস্তফা দিচ্ছি।’
তবে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গন্তব্য নিয়ে এখনই স্পষ্ট করে কিছু বলতে চাননি তিনি। আরাবুল জানান, ‘আমি এখন ফুরফুরা শরিফে যাব। সেখানে আমার হুজুর আছেন, তাঁর সঙ্গে কথা বলব। এরপর কী সিদ্ধান্ত হবে তা জানাব। সময় হলে সবই পরিষ্কার হয়ে যাবে।’
এদিকে ভাঙড়ের আরেক প্রভাবশালী নেতা কাইজার আহমেদের দলত্যাগ নিয়েও শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, যদি আরাবুল ইসলাম ও কাইজার আহমেদ একসঙ্গে তৃণমূল শিবির ছাড়েন, তাহলে ভাঙড়ে দলের সংগঠনে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। নিচুতলার কর্মীদের মধ্যেও এই নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আরাবুল ইসলামের রাজনৈতিক কেরিয়ার বরাবরই বিতর্কে ঘেরা। একসময় কলেজের এক শিক্ষিকার মাথায় জগ ছুড়ে মারার ঘটনায় দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন তিনি।
পরে জেল থেকে ফিরে আবার ভাঙড়ে নিজের রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিষ্ঠা করেন। তবে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের অশান্তির ঘটনায় জেলে যাওয়ার পর থেকেই দলের অন্দরে তাঁর গুরুত্ব কমতে শুরু করে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, ভাঙড়ের আরেক তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার প্রতি দলের বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন আরাবুল ইসলাম। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভাঙড় আসনটি তৃণমূলের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিলেন আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকি।
এবার সেই আসন পুনরুদ্ধারে তৃণমূল যখন মরিয়া, ঠিক তখনই আরাবুল ইসলামের সম্ভাব্য দলবদল নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
