আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফালাকাটার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ময়নাগুড়িতে এক মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকা আসার পর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। সরকারি প্রকল্পের সামান্য কিছু টাকা তুলতে গিয়ে নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স দেখে চক্ষু চড়কগাছ ওই মহিলার। অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা! 

 

অবিশ্বাস্য এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই ময়নাগুড়ি থানা ও এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি ব্লকের সাপটিবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের যোদ্ধারটারি এলাকার। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মহিলা তাঁর অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের সরকারি অনুদানের টাকা তুলতে স্থানীয় একটি ব্যাঙ্কে গিয়েছিলেন। 

 

সেখানে ব্যালেন্স চেক করার সময় স্ক্রিনে ভেসে ওঠে মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো অঙ্ক। দেখা যায়, তাঁর অ্যাকাউন্টে ৭৫০ কোটি টাকারও বেশি ব্যালেন্স রয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে এই খবর চাউর হতেই মহিলার বাড়ির সামনে ভিড় জমান এলাকাবাসী। শুরু হয় নানা জল্পনা। বিপুল এই অঙ্কের উৎস নিয়ে তৈরি হওয়া আতঙ্কে শেষপর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে ওই মহিলার পরিবার। 

 

প্রাথমিকভাবে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, এটি ব্যাঙ্কের কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা সার্ভারের সমস্যার কারণে ভুল ব্যালেন্স প্রদর্শনের ঘটনা হতে পারে। তবে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিকভাবে সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। ঠিক কী কারণে সাধারণ এক মহিলার অ্যাকাউন্টে এত টাকা দেখা গেল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও ব্যাঙ্ক আধিকারিকরা। 

 

একইরকম আরেকটা ঘটনা ঘটেছে আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ব্লকের জটেশ্বর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর ধুলাগাঁও গ্রামে। গ্রামের বাসিন্দার নাম স্বপ্না বর্মন। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে কি না, তা জানতে ধুলাগাঁও বাজারের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়েছিলেন তিনি। নিয়মমাফিক স্টেটমেন্ট বের করতেই সামনে আসে অবিশ্বাস্য সেই অঙ্ক। স্টেটমেন্টে দেখা যায়, তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে প্রায় ৭৪০ কোটি টাকা। 

 

ঘটনার খবর পৌঁছে যায় জটেশ্বর ফাঁড়ির পুলিশের কাছেও। পুলিশ গিয়ে গৃহবধূর সঙ্গে কথা বলে এবং ঘটনার প্রাথমিক খোঁজখবর নেয়। পরে পুলিশই তাঁকে পুনরায় ব্যাঙ্কে গিয়ে ব্যালেন্স যাচাই করার পরামর্শ দেয়। দ্বিতীয় বার ব্যালেন্স পরীক্ষা করতেই সামনে আসে প্রকৃত তথ্য। দেখা যায়, অ্যাকাউন্টে কোনও ৭৪০ কোটি টাকা নেই। আগের মতোই সেখানে রয়েছে মাত্র ২০২ টাকা। অর্থাৎ প্রথম স্টেটমেন্টে যে বিপুল অঙ্ক দেখানো হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের ফল।