বিউ সরকার

 

'অভিষেক ব্যানার্জি ভারতবর্ষের আইনের উর্ধ্বে নন। অভিষেক ব্যানার্জি যদি কোনও বিল্ডিং বা পার্টি অফিস তৈরি করে থাকেন যেটা বেআইনি সেটার জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল। তারপরও যদি তিনি ঠিক না করেন তাহলে তো ভাঙা হবেই। অভিষেক নিজেকে যুবরাজ বলেন বলে তাঁর কথা সামনে আসছে। এরকম অনেক বিল্ডিং আছে, যেগুলো ভাঙা হবে। তারাতলার মত ঘটনা আর হতে দেব না।' আমতলায় অভিষেক ব্যানার্জির কার্যালয় ভাঙতেই হুঙ্কার ছাড়লেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। 

উল্লেখ্য, শনিবার সকাল থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলা এলাকায় তুমুল চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জির কার্যালয় ঘিরে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

প্রশাসন সূত্রে দাবি, বৈধ বিল্ডিং প্ল্যান এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের নথি ছাড়াই ওই কার্যালয় নির্মাণ করা হয়েছে। পরপর একাধিক নোটিস পাঠানো হলেও তার কোনও জবাব না মেলায় প্রশাসন কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটছে বলে জানা গিয়েছে।

এই বিষয়ে অভিষেক বা তাঁর দলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি এখনও। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হচ্ছে কার্যালয়ের একাংশ।  

তিনটি বুলডোজার দিয়ে অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ চলছে। কার্যালয়ের বাইরে শোনা গেল ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানও। শনিবারের ঘটনাকে ঘিরে আমতলা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে কোনওভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের ভিড়ও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

শনিবার সকাল থেকে কার্যালয় চত্বরে পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং প্রশাসনের আধিকারিকদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। গোটা এলাকা গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে রয়েছেন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। পাশাপাশি দমকল বাহিনীকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।  প্রশাসনের দাবি, কার্যালয়টি যে জমির উপর নির্মিত হয়েছে, সেই জমি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ নামে একটি সংস্থার নামে কেনা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট নথিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে বলেও প্রশাসনের দাবি। তবে এই নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান, নির্মাণের বৈধ কাগজপত্র এবং অন্যান্য নথি জমা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই একাধিক বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন। সেই অভিযানেই এবার অভিষেকের আমতলার কার্যালয়কে ঘিরেও প্রশাসনের এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।