আজকাল ওয়েবডেস্ক: ধর্মীয় বিবাদকে কেন্দ্র করে কোটগ্রামে নয় যুবককে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত ১৩ জনকেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিল অতিরিক্ত জেলা দায়রা আদালত। প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়। অনাদায়ে অতিরিক্ত আরও এক মাস জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। পাশাপাশি বাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনায় প্রত্যেককে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা ঘোষণা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডের সাজা দেন বিচারপতি। 

 

 

নৃশংস ঘটনাটি ঘটে ১৯৮১ সালের ৮ অগস্ট তৎকালীন ময়ূরেশ্বর থানার (বর্তমানে মল্লারপুর থানার অন্তর্গত)কোটগ্রাম থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে মাড়গ্রাম থেকে একটি পরিবারের ছয় যুবক এবং ওই গ্রামের আরও তিন যুবক কোটগ্রামে এসে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। বিবাদ ক্রমশ বাড়তে থাকে, চলে হাতাহাতিও। এরপরই গোটা গ্রাম মিলে ঘিরে ধরে ওই নয় যুবককে। তারা একটি বাড়ির ভিতর লুকিয়ে বাঁচার চেষ্টা করলে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এরপর লঙ্কার গুঁড়ো ছড়িয়ে তাদের বাড়ি থেকে বের করে এনে কুপিয়ে খুন করা হয়।

 

 

মাড়গ্রামের বাসিন্দা ওই নয় যুবকের খুনের ঘটনায় কোটগ্রামের ৭২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। মৃত যুবকদের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে কোটগ্রামের ৭২ জনের বিরুদ্ধেই দাখিল করা হয় চার্জশিট। দীর্ঘ ৪৩ বছর মামলা চলে মামলা। এর মাঝে একাধিক অভিযুক্তের মৃত্যু ঘটেছে, অনেকে সাক্ষী দিতে আসেনি। অবশেষে আট জন সাক্ষীর বক্তব্য শোনার পর শুক্রবার দোষী সাব্যস্ত হন ১৩ জন। এ দিন মামলার সাজা ঘোষণা করা হয়। সাজা শুনতে অতিরিক্ত জেলা দায়রা আদালতের সামনে উপচে পড়ে ভিড়। এদিন সাজা ঘোষণার পাশাপাশি বিচারপতি জানান, এই সাজার বিরুদ্ধে চাইলে উচ্চ আদালতে আবেদন করা যাবে এবং প্রয়োজনে জেলা আইনি পরিষেবা সংস্থার তরফ থেকে বিনামূল্যে উকিলও পাওয়া যাবে।