আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি রেকর্ড করতে চান। বিভিন্ন বিল পাস করার জন্য তাই দেশের সংসদে এখন বিজেপির সংখ্যার দরকার। সেই কারণে যতদূর যাওয়ার দরকার বিজেপি যাবে। বুধবার বহরমপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমন ভাষাতেই বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। 

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধীর আজ বলেন, "দেশের আঞ্চলিক দলগুলিকে বিভিন্নভাবে বিজেপি ভাঙার চেষ্টা করছে। এদিক-ওদিক করে তারা আঞ্চলিক দলগুলিকে নিজেদের পক্ষে আনছে। কারণ, দেশের সংসদে তাদেরকে দু'তিনটি বিল পাস করাতে হবে। এর আগে সংসদে বিরোধী দলগুলির ঐক্যবদ্ধ বিরোধিতার কারণে সেই বিল তারা পাস করাতে পারেনি।"
 
প্রসঙ্গত ,সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচিত তৃণমূল কংগ্রেসের ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ২০ জন লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন তাঁরা এনসিপিআই নামে একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন। নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা ঘোষণা করেছেন, তাঁরা সংসদে এনডিএ জোটকেই সমর্থন করবেন। এর ফলে অনেকেই মনে করছেন 'এক দেশ এক ভোট', 'মহিলা  সংরক্ষণ' বিল-সহ আরও কয়েকটি বিল লোকসভায় পাস করালে এনডিএ জোটের আর সমস্যা হবে না। 

অধীর বলেন,"দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রেকর্ড করতে চান। তাই তাঁদের সংখ্যা দরকার। সংখ্যা কব্জায় আনার জন্য যতদূর যাওয়ার দরকার বিজেপি যাবে। টাকার কোনও অভাব তাদের নেই। এর জন্য বাজারে আমাদের লোকেদেরকে কেনাবেচা করা হচ্ছে।"

তিনি 'পশ্চিমবঙ্গ দিবস' পালন প্রসঙ্গে বলেন, "পয়লা বৈশাখ মূলত বাংলার কৃষি-সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত একটি বিশেষ দিন। এর সঙ্গে হিন্দু-মুসলিমের কোনও সম্পর্ক নেই।"  

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আগেকার দিনে ফসল ওঠার পর কৃষকরা এই দিনে জমিদারকে কর দিত। কালক্রমে দিনটি বাঙালির সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও বিশেষভাবে পয়লা বৈশাখ উদযাপন করতেন। বর্তমানে এই দিনে সোনার দোকানে গণেশ পুজো ও হালখাতা করা হয়। পাশাপাশি বেশ কিছুদিন ধরে কলকাতার রেড রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ করে রেখে 'আন্তর্জাতিক যোগ দিবস' পালন করা নিয়েও আজ অধীরবাবু সরব হয়েছেন।   

অন্যদিকে, বুধবার দুপুরে কলকাতা থেকে রাজের প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহর গ্রেপ্তারির পর অধীরবাবু দাবি করেছেন, তাঁর মতো লোক গোটা বাংলায় ছড়িয়ে রয়েছে কিন্তু গ্রেপ্তারি যেন 'সিলেক্টিভ' না হয়। 

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন,"কোথাও উদয়ন গুহ গ্রেপ্তার হবেন আর কোথাও উদয়ন গুহর মতো লোকেদের খাতিরদারি হবে-এটা যেন না হয়।  আইন যেন সকলের জন্য সমান হয়।"

বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদদের দিকে তীব্র কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়ে অধীরবাবু বলেন,"পশ্চিমবঙ্গ বা দিল্লিতে যাঁরা বিজেপি দলে যোগ দিচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে কি উদয়ন গুহর মতো লোক নেই?আসলে উদয়ন গুহর 'বাপেরা' ওই বিদ্রোহী দলে রয়েছেন।  তাঁদের বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা দেখতে চাই। ছুঁচো মেরে হাত গন্ধ করলে এই সরকার কিছু মানুষকে ঠকাতে পারবে, কিন্তু নিজেদেরকে ঠকাতে পারবেনা।"
 
অধীরবাবু বলেন,"যাঁরা বিজেপিতে  যোগ দিচ্ছেন তাঁরা কি উদয়নের থেকে ভাল? চোর বাটপার নয় ? তাঁরা কি ধান্দাবাজি করেননি? তাঁদের রেকর্ড কি খোলা হচ্ছে? এই সমস্ত কিছু উত্তর ,'না'।" তিনি বলেন," তবে আমি উদয়ন গুহর পক্ষে কথা বলছি না। কিন্তু উদ্দেশ্য নিয়ে অবশ্যই প্রশ্ন করব।"

পাশাপাশি অধীরবাবু আজ অভিযোগ করেন,"রাজ্যের বিভিন্ন  তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পুরসভায় আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ হলেও কোনও এক অজ্ঞাত কারণে বহরমপুর পুরসভার বিরুদ্ধে কোনও দুর্নীতির তদন্ত হচ্ছে না।"  তিনি অভিযোগ করেন, বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান হাওয়ালার মাধ্যমে কমপক্ষে ২৫-৩০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে দিয়েছেন। এছাড়াও বহরমপুর পুরসভার শতাধিক চুক্তিভিত্তিক কর্মী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বলেও অধীরবাবু দাবি করেন।