আজকাল ওয়েবডেস্ক: ক্যানিং থানায় কর্মরত হোমগার্ড গুলজার পারভিন মোল্লার মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত পলাতক ক্যানিং থানার সাব ইন্সপেক্টর সায়ন ভট্টাচার্য গ্রেপ্তার। বৃহস্পতিবার স্বরূপনগরে তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত ওই পুলিশ অফিসারকে আলিপুর আদালতে পেশ করা হয়। সেই সঙ্গে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হয় আদালতে। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আরও একটি দিকের খোঁজ পেয়েছে পুলিশ। তবে এখনই সেই বিষয়টি তদন্তের স্বার্থে সামনে আনতে চাইছে না তারা। গোটা ঘটনার তদন্তে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি বিশেষ দল তৈরি হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ক্যানিং থানার পুলিশ কোয়ার্টারস থেকে উদ্ধার হয় মহিলা হোমগার্ড গুলজান পারভিন মোল্লা ওরফে রেশমির দেহ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থানার বাসিন্দা ছিলেন তিনি। শুক্রবার তাঁকে ফোনে না পেয়ে শনিবার তাঁর কোয়ার্টারে গিয়েছিলেন বোন রুকসানা খাতুন। তিনিই দিদির ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

হোমগার্ডের পরিবারের দাবি, রেশমি আত্মহত্যা করতে পারেন না। তাঁকে খুন করা হয়েছে। তাঁরা অভিযোগ তুলেছেন ক্যানিং থানারই এই সাব ইনস্পেক্টরের বিরুদ্ধে। ওই মর্মে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মৃতার কাকা। তাঁর দাবি, ভাইঝির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল ওই সাব ইনস্পেক্টরের। তা জানাজানি হতেই রেশমিকে খুন করে আত্মহত্যা বলে চালাতে চাইছেন তিনি।

এই ঘটনায় ইতিমধ্যে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। ছয় সদস্যের ওই তদন্তকারী দলের প্রধান করা হয়েছে বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রূপান্তর সেনগুপ্তকে। তবে ওই ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকের কোনও খোঁজ মিলছিল না। অবশেষে উত্তর ২৪ পরগনা থেকে ধরা পড়লেন তিনি।

যদিও ধৃত এসআই-এর স্ত্রীর বক্তব্য, তাঁর স্বামীকে ফাঁসানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “ওই হোমগার্ডের যাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল, তাঁর নামও সায়ন। ভাল পুলিশ অফিসারকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই মহিলার সঙ্গে যার ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে,  তাঁকে কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না?” গোটা বিষয়টির তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।