আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। নতুন বছরের প্রথম মাসেই রাজ্যজুড়ে সভা করবেন তিনি। শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগণার বারুইপুর থেকে সভা শুরু করবেন অভিষেক। রাজ্যের বিভিন্ন অংশে সারা মাস ধরে সভা রয়েছে তৃণমূল সাংসদের।

তবে প্রত্যেক সভার মধ্যে একটা মিল লক্ষ্য করা যাবে এবার। আর তা হল সভামঞ্চ। জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে ব্রিগেডে তৃণমূল যে জনসভা করেছিল সেই মঞ্চের আদলেই এবার তৈরি হচ্ছে অভিষেকের জনসভার মঞ্চ। লোকসভা নির্বাচনের আগে ব্রিগেডে এই একই ধরনের মঞ্চে লম্বা ব়্যাম্প ধরে হেঁটে কর্মীদের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন অভিষেক এবং মমতা। এবারেও নির্বাচনের আগে এই বিশেষ ধরনের মঞ্চ ধরে কর্মীদের কাছে পৌঁছে যেতে পারবেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

কীরকম দেখতে হবে এই বিশেষ মঞ্চ? জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালে ব্রিগেডে জনগর্জন সভার মতোই একটা মূল মঞ্চ থাকবে। তার দুদিকে দুটো মঞ্চ থাকবে যেখানে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বরা থাকবেন। একটি মঞ্চে থাকবেন ৩১ জন বিধায়ক। অন্যদিকে, জেলা পরিষদ সদস্য পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা বসবেন অন্য একটি মঞ্চে।

মঞ্চের সামনে থাকবে লম্বা ব়্যাম্প। তার দুদিকে থাকবে সাংবাদিকদের জন্য আলাদা জায়গা। বৈদ্যুতিন এবং ডিজিটাল মাধ্যমের সাংবাদিকদের জন্য আলাদা জায়গা থাকছে বলে জানা গিয়েছে। লম্বা ব়্যাম্প থাকবে ক্রস করে ঠিক ব্রিগেডের মঞ্চের মতো। তার দুদিকে কর্মী সমর্থকরা থাকবেন। সেই ব়্যাম্প ধরে হেঁটে কর্মী সমর্থকদের কাছে পৌছে যাবেন অভিষেক। ব়্যাম্পের দুদিকে থাকবে সশস্ত্র পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার সাংবাদিক সম্মেলন থেকে অভিষেক জানিয়ে দেন নতুন বছরের শুরু থেকেই তিনি পথে নামবেন। ২ জানুয়ারি থেকেই রাজ্য সরকারের ১৫ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান তিনি মানুষের দুয়ারে যাবেন। শুরু হবে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বারুইপুর থেকে। ৩১ ডিসেম্বর দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরেও গিয়েছিলেন অভিষেক।

তৃণমূলের ১০ জনের প্রতিনিধি দল কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেন, যে দলের নেতৃত্বে ছিলেন অভিষেক ব্যানার্জি। আর সেই আড়াই ঘণ্টার বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসেই কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি। তিনি বলেন, ''কে ভোট দেবে সেটা কেন্দ্র সরকার নির্বাচন করছে। পশ্চিমবঙ্গে ভোটার বাদ পড়েছেন ৫৮ লাখ ২০ হাজার। এর মধ্যে কতজন অনুপ্রবেশকারী সেটা তালিকা দিয়ে প্রকাশ করুক নির্বাচন কমিশন। আর যদি সেটা করতে না পারে তাহলে ক্ষমা চেয়ে নিক।''

বৈঠকের পর বাইরে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসআইআরের সময়সীমা নিয়ে অভিষেক বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর নিয়ে কেন বাড়তি সময় দেওয়া হয়নি। সীমান্তবর্তী সব রাজ্যে কেন এসআইআর নয়? এসআইআর কারণে বিএলও, সাধারণ মানুষের প্রাণ গিয়েছে। ছ'জন হাসপাতালে ভর্তি। পরিবারের লোকেরা পর্যন্ত বলছে এসআইআর এর জন্য দায়ী। আসলে, বেছে বেছে বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে জনসংখ্যা ১০ কোটি ৫ লাখ। সবথেকে কম ভোটার বাদ গিয়েছে এখানে। মাত্র ৫ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গে ১ কোটি অনুপ্রেবেশকারী থাকলে তার তালিকা দিক কমিশন। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে।"