আজকাল ওয়েবডেস্ক: নতুন বছর পড়তেই, ভোটের ময়দানে পুরোদমে তৃণমূল কংগ্রেস। ময়দানে খোদ দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। দিনকয়েক আগেই, চলতি বছরের বিধানসভা ভোটের সুর বেঁধে দিয়েছে বাংলার শাসক দল। ট্যাগ লাইন, 'আবার জিতবে বাংলা'। আর এই বার্তা রাজ্যের প্রান্তে প্রান্তে ছড়িয়ে দিতে, ২ জানুয়ারি থেকেই পথে অভিষেক। একমাস ধরে, রাজ্যজুড়ে একের পর এক সভা করবেন তিনি। সূচনা হল, ২৪ পরগণার বারুইপুর থেকে 'রণ সংকল্প সভা'। বক্তৃতা জুড়ে একের পর এক কটাক্ষ, পয়েন্ট ধরে উত্তর। তবে সবথেকে বেশি চমক অভিষেক দিলেন, সভামঞ্চের ব্লু প্রিন্ট নিয়ে।

বৃহস্পতিবার থেকেই জল্পনা ছিল, অভিষেকের সভা-সজ্জা নিয়ে। ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে ব্রিগেডে তৃণমূল যে জনসভা করেছিল সেই মঞ্চের আদলেই এবার তৈরি হচ্ছে অভিষেকের জনসভার মঞ্চ। লোকসভা নির্বাচনের আগে ব্রিগেডে এই একই ধরনের মঞ্চে লম্বা ব়্যাম্প ধরে হেঁটে কর্মীদের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন অভিষেক এবং মমতা।
এবারে র্যাম্প কেন?
বক্তৃতা কিছুটা এগোতেই উত্তর দিলেন অভিষেক। সভামঞ্চে ডাকলেন এমন তিনজনকে, যাঁরা নির্বাচন কমিশনের তালিকায় 'মৃত', তেমনটাই অভিযোগ অভিষেকের। বক্তৃতার মাঝেই তিনি মঞ্চে ডেকে নেন মেটিয়াবুরুজের মনিরুল মোল্লা, মায়া দাস এবং কাকদ্বীপের হরেকৃষ্ণ গিরিকে। অভিষেক বললেন, বেঁচে রয়েছেন, কিন্তু নির্বাচন কমিশনের তালিকায় মৃত, দক্ষিণ চব্বিশ পরগণায় এই সংখ্যা ২৪।
এদিন নিজের বক্তব্যে, বেশ বড় অংশ জুড়ে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা নিয়ে কথা বলেন অভিষেক। জানান, কেন তাঁর এই সভা শুরু হল দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা থেকেই। নিজের 'কর্মভূমি'ত্রে দাঁড়িয়েই ২৬-এর ভোটের সুর বেঁধে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এদিন তিনি বলেন, 'আমি কথা দিয়েছি, ২০২১-এর চেয়ে তৃণমূলের ভোট ২০২৬-এ বাড়বে। একটা হলেও আসন বাড়বে। আপনারা কথা দিন, সেই একটা আসন যেন এই জেলা থেকে হয়। ভাঙড়ও এ বার আমাদের জিততে হবে। যত পরিশ্রম দরকার, করতে হবে। সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে লড়তে হবে। আপনারা যেখানে বলবেন, আমি যাব।'
বক্তব্যে উঠে আসে ব্রিগেডের চিকেন প্যাটিস প্রসঙ্গ। সুর চড়িয়ে অভিষেক বলেন, 'গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে চিকেন প্যাটিস বিক্রির জন্য যারা হামলা চালিয়েছে, তাহলে কিছু বলার নেই। গীতায় শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং বলেছেন, কুকুর-মানুষ সকলের মধ্যে আমি বিরাজমান। এর জবাব বাংলা দেবে। কে কী খাবে, কী বিক্রি করবে, কী পরবে, সেটা কি বিজেপির দালালরা ঠিক করবে? ' সঙ্গেই বলেন, 'দেয়। যত দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছে, বাংলার মানুষের দিকে চোখ তুলে তাকালে জবাব পাবে। ২০২৬-এও ব্যতিক্রম হবে না।' এদিনের মঞ্চ থেকে এসআইআর নিয়ে সুর চড়ান অভিষেক, সুর চড়ান বাংলাভাষীদের উপর আক্রমণ নিয়েও।
