আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জির আমতলার কার্যালয় ঘিরে শনিবার দিনভর চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। জেলা পরিষদের নির্দেশে প্রশাসন বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে কার্যালয় ভাঙার অভিযান শুরু করে। সকাল থেকেই বিশাল পুলিশ বাহিনী, কেন্দ্রীয় বাহিনী, দমকল, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং তিনটি জেসিবি মোতায়েন করা হয় এলাকায়। বহুতলের সামনে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয় বুলডোজারও।

 

অভিযান চলাকালীন কার্যালয়ের ভিতরে ডিজিটালি লক করা দু'টি ঘরের সন্ধান মেলে। সেই ঘরের দরজা খুলতে না পারায় দমকল বাহিনীকে ডাকা হয়। পরে দমকল কর্মীরা ভিতরে প্রবেশ করে লক ভাঙার কাজ শুরু করেন। প্রশাসনের অনুমান, ওই ঘরগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ নথি বা সামগ্রী থাকতে পারে। তাই গোটা প্রক্রিয়াই পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে সম্পন্ন করা হচ্ছে। 

 

প্রশাসনের দাবি, অভিষেক ব্যানার্জির এই কার্যালয়টি প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বৈধ নির্মাণ পরিকল্পনা ছাড়াই তৈরি করা হয়েছিল। ১৫ জুলাই শুনানির জন্য পরপর দু'টি নোটিস পাঠানো হলেও, কেউ হাজির না হওয়ায় শনিবার বেআইনি অংশ ভাঙার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। এরপর তিনটি জেসিবি দিয়ে ভবনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলা শুরু হয়। 

 

বুলডোজার অভিযান শুরু হতেই এলাকায় উপস্থিত বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। কেউ মিষ্টি বিতরণ করেন, আবার কেউ স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের অভিযোগ, এই কার্যালয় থেকেই দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সন্ত্রাস, ভয়ভীতি এবং অত্যাচার চালানো হয়েছে। এক বিজেপি কর্মী বলেন, "বিপত্তারিণীর দিনে বিপদের খুঁটিটাই আজ উপড়ে ফেলা হচ্ছে।" অন্য এক কর্মীর দাবি, "এই অফিস থেকেই শাহজাহান, জাহাঙ্গিরদের মতো সন্ত্রাসীদের তৈরি করা হয়েছিল।"

অভিযানের মাঝেই এক তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, বিজেপি কর্মীদের একাংশ তাঁকে লক্ষ্য করে বিক্ষোভ দেখান এবং ধাওয়া করেন। পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

 

এদিকে, কার্যালয়ের ভিতরে ঢুকে কিছু বিক্ষোভকারী ভাঙচুর চালানোর অভিযোগও ওঠে। সেখান থেকে একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ওই ল্যাপটপে গরু পাচার-সহ বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ডের তথ্য থাকতে পারে। তবে এই দাবির কোনও সরকারি বা তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। 

 

পুরো এলাকা ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন রয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজন হলে ভবনের আরও অংশ ভাঙার কাজ চলবে। ডিজিটালি লক করা ঘরগুলির তল্লাশি শেষ হওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, এটি বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ। অন্যদিকে, তৃণমূলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।