আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাস্তার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল আড়াই লক্ষ টাকা। রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেছে বলে ফলকও বসানো হয়েছে, কিন্তু কোথায় রাস্তা? বাস্তবে যেন আস্ত রাস্তা চুরি! তৃণমূলের জমানায় আরও একটি দুর্নীতির ঘটনা সামনে আসছে বীরভূমের নানুর বিধানসভার বড় শিমুলিয়া গ্রামে।


শুধু কি রাস্তা? জল, বিদ্যুৎ-এর মতো ন্যূনতম পরিষেবা থেকেও বঞ্চিত গ্রামের বাসিন্দারা। আর নির্বাচন এখানে প্রহসন! জানা গিয়েছে, গ্রামের ভোটাররা শেষবার নিজের ভোট নিজে দিতে পেরেছিলেন ২০১১ সালে। তারপর ২০২৬য়ে। কিন্তু মাঝে? শুধুই ছাপ্পা, প্রতিবাদ করলেই নেতাদের হুংকার — যাও যাও, তোমাদের ভোট হয়ে গিয়েছে। তাই তৃণমূলের জমানায় এভাবেই চুপ ছিলেন গ্রামের নিরীহ মানুষজন। কিন্তু পালাবদল হতেই বুকে একটু সাহস সঞ্চয় করে প্রতিবাদে সরব হচ্ছেন বড় শিমুলিয়া গ্রামের মানুষজন।

 

গ্রামের ৮৪ নম্বর বুথের অন্তর্গত এই বড় শিমুলিয়া গ্রামটিতে প্রায় ৩০০টি হিন্দু পরিবারের বসবাস। গ্রামবাসীদের বিস্ফোরক অভিযোগ, কলো শেখ, দোলন শেখ, নাসির শেখ ও সনু শেখদের মতো স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের দাপটে দীর্ঘদিন ধরে এখানে উন্নয়নের নামে চলেছে লুটপাট। গ্রামের বাসিন্দা কিশোরী ব্যাপারি থেকে পান্নালাল দাসের বাড়ি অভিমূখে আড়াই লক্ষ টাকার যে পিসিসি রাস্তার বোর্ড ঝুলছে, বাস্তবে তা শুধুই ফাঁকা মাটি।


প্রতিবাদ করলেই জুটত অমানুষিক নির্যাতন। মহাদেব সরকারের মতো বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকদের বিগত ২০২১ সালে মিটিংয়ে না যাওয়ার অপরাধে বেধড়ক মারধর করে জামাকাপড় ছিঁড়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, গ্রামবাসীদের অভিযোগ— আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আবাস যোজনার ঘর থেকে ৩০-৪০ হাজার টাকা এবং ১০০ দিনের কাজের টাকা জোরপূর্বক কাটমানি নেওয়া হয়েছে। অজয় নদ থেকে অবৈধ বালি পাচারের কোটি কোটি টাকাও গিয়েছে এই দুর্বৃত্তদের পকেটে। প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও মেলেনি কোনো সুরাহা, উল্টে জুটেছে হুমকি। তবে রাজ্যে নতুন সরকার আসতেই অবরুদ্ধ কণ্ঠস্বর মুক্ত হচ্ছে। দোষীদের কঠোর শাস্তি এবং নিজেদের অধিকার ফিরে পাওয়ার আশায় এখন বুক বাঁধছেন বড় শিমুলিয়ার বঞ্চিত মানুষজন।