অভিনেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায় আর নেই। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর গত ১৭ আগস্ট থেকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল তাঁকে। সোমবার সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান এই অভিনেতা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।
জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ টলিউড। কিন্তু এই দুঃসময়ের আবহে হঠাৎই চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে আরেক অভিনেতা জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে। ফেসবুকে জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি ছবি পোস্ট করে জয়জিৎ লিখেছেন –
“প্রয়াত অভিনেতা জয় ব্যানার্জী। ওনার আত্মার শান্তি কামনা করি
সকাল থেকে প্রচুর ফোন আর মেসেজ পেয়েছি। আমি ভালো আছি।”
( পোস্টের বানান অপরিবর্তিত রাখা হল )

অভিনেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে আজকাল ডট ইন। জয়জিতের কথায়, “বাধ্য হয়েই লিখেছি ওই পোস্ট। জয়দা মারা গিয়েছেন, এমন খারাপ খবরের মাঝে আমার ফোনে অজস্র মেসেজ ঢুকছে। বেশিরভাগই ‘তুমি বেঁচে আছো তো?’, ‘তোমার নামে এটা কী খবর শুনলাম?’ ফোন তো আসছেই। কী বলব বলুন! আমি সাধারণত শুটিং না থাকলে একটু দেরি করেই সকালে বিছানা ছাড়ি। আজকেও উঠেছি খানিক দেরি করেই। উঠে দেখি, ফোনে অজস্র মিসড কল। এমন ব্যক্তিরাও ওই তালিকায় রয়েছেন যাঁরা কোনওদিন ও খোঁজ নেন না। তারপর এই দুঃসংবাদ পেয়েই বুঝলাম আসল ব্যাপারটা। তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—“মানে, জয় আর জয়জিৎ— এই দুই নামও মানুষ গুলিয়ে ফেলছে! কিন্তু তাই বলে কেউ কি কাউকে জিজ্ঞেস করে— ‘তুমি বেঁচে আছো তো?’ মানুষের ভদ্রতা বা সাধারণ জ্ঞান বোধহয় একেবারেই হারিয়ে ফেলেছে। শুনেছিলাম মানুষের ভদ্রতা, সাধারণ জ্ঞান হাঁটুতে গিয়ে থেকেছে, এখন দেখছি সেটাও ভুল। ওটা গোড়ালিতে গিয়ে ঠেকেছে!”

প্রসঙ্গত, চুমকি চৌধুরী এবং জয়ের জুটি এখনও সিনেপ্রেমীদের কাছে আলোচিত। সুখেন দাস, অঞ্জন চৌধুরীর একাধিক ছবিতে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। ‘হীরক জয়ন্তী’, ‘মিলন তিথি’, ‘জীবন মরণ’, ‘নাগমতি’-সহ বহু ছবির নায়ক ছিলেন জয়। ‘চপার’ ছবিতে তাঁর অভিনয় বিশেষ ভাবে প্রশংসিত হয়েছিল দর্শক মহলে। মাঝখানে অভিনয় থেকে কিছুটা দূরেই সরে গিয়েছিলেন। চলে গিয়েছিলেন অন্তরালে। জয় প্রচারের আলোয় ফিরে আসেন ২০১৪ সালে। তবে এবার অভিনয় নয় রাজনীতিতে। ২০১৪ সালে বিজেপিতে যোগদান করেন জয়। শতাব্দী রায়ের বিরুদ্ধে লোকসভা ভোটে প্রার্থীও হন। তবে জিততে পারেননি তিনি। ২০১৯ এ ফের একবার বিজেপির হয়ে লোকসভা ভোটের প্রার্থী হন জয়। তবে এবারও পরাজিত হতে হয় তাঁকে। ২০২২-এ বিজেপি ত্যাগ করার কথা ঘোষণা করেন অভিনেতা।রাজনীতিবিদ, অভিনেত্রী অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিয়ে হয় জয়ের। তবে সেই বিয়ে টেকেনি। এরপর দ্বিতীয় স্ত্রী অঙ্কিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই সংসার ছিল প্রয়াত অভিনেতার। জয়ের মা-ও বেঁচে রয়েছেন। ছেলের মৃত্যুশোকে কাতর তিনি। অভিনেতার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ টলিপাড়া।
