আজকাল ওয়েবডেস্ক: লিটল ম্যাগাজিন। মতি নন্দী একসময় বলেছিলেন, 'বাংলা সাহিত্যে পান্ডুর রং ধরেছে। একমাত্র লিটল ম্যাগাজিনই পারে রক্ত সরবরাহের কাজটি করে তাকে বাঁচাতে।' সাহিত্যের আঙিনায় লিটল ম্যাগাজিনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের কোনও অবকাশ নেই। নানা আকারে, বহরে, বিষয়ে, বৈচিত্রে উঠে এসেছে বারেবারে। লিটল ম্যাগাজিন নিয়ে এবার অভূতপূর্ব কাজ করেছেন অরিন্দম সাহা সরদার। তিনি জীবনস্মৃতি আর্কাইভের কিউরেটর। তাঁর উদ্যোগে, নিরলস চেষ্টায় এবং বহু মানুষের সহায়তায় গত ৬ বছর ধরে প্রায় আট হাজার লিটল ম্যাগাজিনের সমাবেশ ঘটেছে। ইতিমধ্যে তার একটি ডিজিটাল তালিকায় প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর, রবিবার উত্তরপাড়ায় জীবনস্মৃতি আর্কাইভের ঘরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে 'দুষ্প্রাপ্য ছোট পত্রিকার আবাস: একটি ছোট পত্রিকা সংরক্ষণ ও গবেষণা প্রকল্প।' এই প্রকল্প উৎসর্গ করা হয়েছে অধ্যাপক অতীশ রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়, অধ্যাপক সোমেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, রবীন্দ্রসংগীত শিক্ষক সুভাষ চৌধুরী, রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ঋতুপর্ণা মতিলাল এবং নাট্যকর্মী সৌরভ দত্তের স্মৃতিতে। এই সংগ্রহে রয়েছে সবুজপত্র, কবিতা, পরিচয়, কবি ও কবিতা, পাক্ষিক, কবিকৃতি, বিভাব, অভিনয়, সাহিত্য পরিষত পত্রিকা, সাহিত্য দর্পণ, ভাষা, অমৃতলোক, গণনাট্য, গ্রুপ থিয়েটার, রবীন্দ্র সোসাইটি সাহিত্য পত্রিকা, উত্তরাধিকার, কলকাতা, তটরেখা, চতুরঙ্গ, এবং মুশেয়ারা, রক্তকরবী, একালের রক্তকরবী সহ বহু পত্রিকা। এই প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন ইতিহাসবিদ এবং রবীন্দ্র গবেষক উমা দাশগুপ্ত। রবীন্দ্র চর্চায় বিশেষ অবদানের জন্য তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হবে 'জীবনস্মৃতি সম্মাননা ২০২৩'। সামগ্রিক পরিকল্পনা ও রূপায়ণে রয়েছেন আর্কাইভের কিউরেটর অরিন্দম সাহা সরদার। উৎসাহী পাঠক এবং গবেষকরা সোমবার থেকেই ব্যবহার করতে পারবেন এই সংগ্রহশালা।