আজকাল ওয়েবডেস্ক: কাউন্টডাউন শুরু। আটলান্টায় স্পটলাইট থাকবে বর্তমান প্রজন্মের দুই সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি এবং মহম্মদ সালাহের ওপর। দু'জনের মধ্যে একজনের আজই শেষ বিশ্বকাপ। অন্যজন স্বপ্নের দিকে আরও একধাপ পা বাড়াবে। চার বছর আগে বৃত্ত সম্পূর্ণ করে ফেলেছেন মেসি। কাতারে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। তবে এখনও নতুন করে রেকর্ড লিখে চলেছেন তারকা ফুটবলার। এখনও পর্যন্ত চার ম্যাচে সাত গোল। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কিলিয়ান এমবাপে এবং আর্লিং হালান্ডের সঙ্গে রয়েছেন। ২০২২ বিশ্বকাপ থেকে এখনও পর্যন্ত টানা আট ম্যাচে গোল করেছেন মেসি। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল ২০।

অন্যদিকে সালাহ মিশরের ফুটবলের মুখ। ৩৪ বছরের ক্রিকেটার প্রিমিয়ার লিগে চারবার সোনার বুট জয়ী। লিগের সর্বোচ্চ বিদেশি গোলদাতা। ক্লাব স্তর থেকে ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও নিজেকে মেলে ধরেছেন। মিশরের হয়ে ১১৮ ম্যাচে ৬৬ গোল রয়েছে। দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। জাতীয় দলের কোচ হোসাম হাসানের থেকে মাত্র তিন গোল কম। তাঁর গোল সংখ্যা ৬৯। ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপে তিন গোল করে বিশ্বমঞ্চে মিশরের একনম্বর গোলদাতা। শুধু গোলই না, একজন প্লেমেকার হিসেবেও দলকে সাহায্য করেছেন। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোল হারিয়ে বিশ্বকাপের প্রথম জয় তুলে নেয় মিশর। তারপর পেনাল্টিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নকআউট পর্বের ছাড়পত্র সংগ্রহ করে। 

দুই তারকার আন্তর্জাতিক রেকর্ডে অনেক পার্থক্য। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৩ ম্যাচে ১২৪ গোল করেন মেসি। জেতেন বিশ্বকাপ এবং কোপা আমেরিকা। আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। অন্যদিকে ১১৮ ম্যাচে সালাহের ৬৬ গোল বোঝাচ্ছে মিশর দলে তাঁর গুরুত্ব। আন্তর্জাতিক ফুটবলে অধিকাংশ ম্যাচে গোল পেয়েছেন। দুই তারকার মধ্যে বয়সের পার্থক্য পাঁচ বছর। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা মেসির দ্বিগুন। গোল সংখ্যাও প্রায় তাই। আন্তর্জাতিক থেকে শুরু করে বিশ্বকাপের গোলে একই অবস্থা। মেসির অভিষেক হয় ২০০৫ সালে, সেখানে সালাহার ২০১১ সালে। বয়সে, অভিজ্ঞতায়, রেকর্ডে অনেক এগিয়ে ফুটবলের রাজপুত্র। দু'জনেরই হয়ত এটাই শেষ বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর নেইমার, রোনাল্ডো আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছি। মেসি, সালাহরা একই পথের পথিক হবে কিনা বলবে সময়। তবে বর্তমানে আন্তর্জাতিক ফুটবল জীবনে আরও একটি পর্ব যোগ করার শেষ সুযোগ দুই মহাতারকার সামনে।