ইংল্যান্ড - ৪ (কেন-২, বেলিংহ্যাম, র‍্যাশফোর্ড)

ক্রোয়েশিয়া - ২ (বাতুরিনা, মুসা)

আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রত্যেক বিশ্বকাপের শুরুতেই ইংল্যান্ডের থিম থাকে, 'ইটস কামিং হোম'। কিন্তু একাধিকবার চাপের মুখে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার উদাহরণ রয়েছে। এবারের বিশ্বকাপে কি সেই মিথ ভাঙবে? ঘুঁচবে ৬০ বছরের খরা? ইংল্যান্ডের প্রথম ম্যাচ দেখে সেই উত্তর পাওয়া যায়নি। বুধবার ভারতীয় সময় মধ্যরাতে ডালাসে ৪-২ গোলে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল ইংল্যান্ড। জোড়া গোল করেন হ্যারি কেন। বাকি দুটো গোল জুড বেলিংহ্যাম এবং মার্কাস র‍্যাশফোর্ডের। কিন্তু রক্ষণ নিয়ে রয়ে গেল প্রশ্নচিহ্ন। তিনবার এগিয়ে দু'বার গোল হজম। ক্রোয়েশিয়ায় পজিটিভ স্ট্রাইকারের অভাবে এই যাত্রায় বেঁচে যায় থ্রি লায়ন্সরা। গোলের সংখ্যা যেমন বাড়তে পারত, তেমনই এক পয়েন্ট নিয়েও মাঠ ছাড়তে পারতেন হ্যারি কেনরা। ম্যাচের শেষ কোয়ার্টারে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন ইংল্যান্ডের গোলকিপার পিকফোর্ড। ছয় গোলের ম্যাচ তেমন আহামরি নয়। তবে তুলনায় দ্বিতীয়ার্ধে ভাল ফুটবল খেলে ইংল্যান্ড। 

২০১৮ সেমিফাইনালের পর প্রথম সাক্ষাৎ দুই দেশের। সেবার এক্সট্রা টাইমে মারিও মান্ডজুকিচের গোলে ইংরেজদের হৃদয় ভেঙেছিল বালকানরা। এবার প্রতিশোধ নিল ইংল্যান্ড। গ্যারেথ সাউথগেটের জমানায় দু'বার তীরে এসেও তরী ডোবে। এবার দায়িত্ব দেওয়া হয় জার্মান কোচ টমাস টুখেলকে। তাঁর হাত ধরে ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছেন হ্যারি কেনরা। অন্যদিকে ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে সাফল্যের পর এবার ট্রানজিশনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে ক্রোয়েশিয়া। কেরিয়ারের শেষদিকে লুকা মডরিচ, মাতেও কোভাসিচ, ইভান পেরিসিচরা। ক্রোয়েশিয়ার গোল্ডেন এরা শেষের পথে। এদিন দলকে সাহায্য করতে পারেননি মডরিচ। ৫৮ মিনিটের মাথায় তাঁকে তুলে নেন কোচ। তবে শেষ।মিনিট পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান পেরিসিচ।

সামনে একা কেনকে রেখে ৪-২-৩-১ ছকে দল সাজান টুখেল। বুকায়ো সাকা, মার্কাস র‍্যাশফোর্ডকে প্রথম একাদশে রাখেননি। অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়ার ফরমেশন ছিল ৩-৪-৩। ম্যাচের শুরুতেই নাটক। ১২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন হ্যারি কেন। কিন্তু বিতর্কিত পেনাল্টি। ম্যাচের ৮ মিনিটে বক্সের মধ্যে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে মাদুয়েকেকে ফাউল করেন লুকা মডরিচ। স্পট কিক দিতে দ্বিধা করেননি রেফারি। হ্যারি কেনের প্রথম শট বাঁচিয়ে দেন লিভাকোভিচ। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে সেভ করেন। কিন্তু অসন্তুষ্ট হ্যারি কেন রেফারির দ্বারস্থ হন। দাবি করেন, শট মারার আগে লাইন ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন ক্রোয়েশিয়া গোলকিপার। VAR এর সাহায্য নেন রেফারি। খুব সূক্ষ্ম সিদ্ধান্ত। বিতর্কিতও। দ্বিতীয় বার শট মারার সিদ্ধান্ত নাও নিতে পারতেন রেফারি। কিন্তু সিদ্ধান্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে যায়। ভাগ্য সহায় ছিল হ্যারি কেনের। এবার আর কোনও ভুল করেননি ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। লিভাকোভিচকে বোকা বানিয়ে ডানদিকে নিখুঁত প্লেসিং কেনের। এই একটি মুহূর্ত ছাড়া প্রথম ৩০ মিনিটে উল্লেখযোগ্য কিছু নেই। বল মাঝমাঠেই ঘোরাফেরা করে। দুই দলই পজেশনাল ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। 

প্রথমার্ধের বাকি সময় কোনও দলই তেমন সুযোগ তৈরি করতে পায়নি। ফাইনাল থার্ডে ব্যর্থতা। তবে তারমধ্যেও মন্দের ভাল ইংল্যান্ড। বেশ কয়েকবার আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে। ডানদিক সচল রাখেন মাদুয়েকে। থ্রি লায়ন্সদের অধিকাংশ আক্রমণ সেদিক থেকেই হয়। গতির বিরুদ্ধে গিয়ে ম্যাচের ৩৬ মিনিটে সমতা ফেরায় ক্রোয়েশিয়া। গোল করেন বাতুরিনা। সুসিচের থেকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটে টপ লেফট ফিনিশ। অনবদ্য গোল। কিন্তু ক্রটরা ম্যাচে ফেরার আগেই আবার এগিয়ে যায় টমাস টুখেলের দল। ম্যাচের ৪২ মিনিটে আবার ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন কেন। কর্নার থেকে হেডে গোল করেন। কীভাবে ইংল্যান্ডের অধিনায়ককে আনমার্কড রাখা হল, সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। বিশ্বকাপে হ্যারি কেনের দশ নম্বর গোল। ছুঁয়ে ফেলেন গ্যারি লিনেকারের। দেশের হয়ে মোট ৮১তম গোল। 

বিশ্বফুটবলের মঞ্চে সেরা প্রথমার্ধ নয়। চার গোল হলেও, আহামরি ফুটবল খেলেনি কোনও দলই। বরং, বলা যায় সাধারণ ফুটবল। চারের মধ্যে দুটো গোল সেট পিস থেকে। দুটোই ইংল্যান্ডের। বরং, তুলনায় দুটো ভাল গোল করে ক্রোয়েশিয়া। বিরতির ঠিক আগে সমতা ফেরায় রাশিয়া বিশ্বকাপের রানার্সরা। প্রথমার্ধের স্টপেজ টাইমের অন্তিম্লগ্নে গোল করেন মুসা। বিরতিতে স্কোরলাইন ২-২ ছিল। ম্যাচের ৪৭ মিনিটে আবার ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন জুড বেলিংহ্যাম। ৫২ মিনিটে জয় নিশ্চিত করার সুযোগ ছিল ইংল্যান্ডের সামনে। কিন্তু রাইসের নিশ্চিত গোল বাঁচান ক্রোয়েশিয়া কিপার। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি মিনিট পাঁচেকের ঝড় তোলে ইংল্যান্ড। কিন্তু গোলের নিচে ঢাল হয়ে দাঁড়ান লিভাকোভিচ। পরপর তিন থেকে চারটে নিশ্চিত গোল বাঁচান। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবার প্রথমার্ধের শেষে জোড়া গোল হজম করে ইংল্যান্ড। শেষপর্যন্ত দুর্গ অক্ষত রাখতে পারেননি ক্রোয়েশিয়ার কিপার। তিনটে পরিবর্তন পার্থক্য গড়ে দেয়। সাকার পাস থেকে ইংল্যান্ডের হয়ে চতুর্থ গোল মার্কাস র‍্যাশফোর্ডের।