আজকাল ওয়েবডেস্ক: অলিম্পিকে পাকিস্তানের সোনাজয়ী  জ্যাভলিন থ্রোয়ার আরশাদ নাদিম কমনওয়েলথ গেমসে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর সমালোচনার মুখে পড়েছেন। গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত জ্যাভলিন থ্রো ফাইনালে তিনি ৮০ মিটারের নীচে থ্রো করে নবম স্থান অর্জন করেন। সোনা জিতেছেন শ্রীলঙ্কার রুমেশ পাতিরাগে, রুপো পান ভারতের নীরজ চোপড়া এবং ব্রোঞ্জ পেয়েছেন ভারতেরই যশবীর সিং।

তবে আরশাদের এমন ফল পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত ছিল না। কমনওয়েলথ গেমসের আগে ২০২৬ সালে তিনি মাত্র একটি প্রস্তুতি প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। সেটিও সুইজারল্যান্ডে। এছাড়া দীর্ঘ সময় লাহোরের গরম আবহাওয়ায় অনুশীলন করলেও বিদেশি কোনও কোচ বা প্রশিক্ষকের সরাসরি তত্ত্বাবধান পাননি।

এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ টারসিয়াস লাইবেনবার্গের অধীনে অনুশীলন করলেও এবার তিনি স্থানীয় কোচ সলমন বাট ও দেশীয় প্রশিক্ষকদের নিয়েই প্রস্তুতি নেন। অন্যদিকে লাহোরের আবহাওয়ার সঙ্গে গ্লাসগোর আবহাওয়ার ব্যাপক পার্থক্যও তাঁর পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ভারতের নীরজ চোপড়া ও তাঁর সতীর্থরা আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতির সুযোগ পেয়েছেন। নীরজ সুইজারল্যান্ডের বিয়েনে নিজের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন ক্যাম্পে অনুশীলন করেন। আর রোহিত যাদব ও যশবীর সিং পোল্যান্ডের স্পালায় বিদেশি কোচ ও প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে প্রস্তুতি নিয়েছেন। তারই প্রতিফলন হিসেবে ভারত জ্যাভলিন ইভেন্টে  রুপো ও ব্রোঞ্জ পদক পান। 

২০২২ সালে বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে ৯০.১২ মিটার থ্রো করে সোনা জেতেন আরশাদ। এবার ৮০ মিটারও অতিক্রম করতে পারেননি। তিনি শীর্ষ আটে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হন এবং পাকিস্তানের পদকের আশা ভাঙে। 

অলিম্পিকে ৯২.৯৭ মিটারের রেকর্ড থ্রো করে সোনা জয়ী এই অ্যাথলিটের এমন পারফরম্যান্সে হতাশ তাঁর সমর্থকরা। দীর্ঘদিনের কোচ সলমন বাটও স্বীকার করেছেন, আরশাদ এবার নিজের সেরা ফর্মে ছিলেন না এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতিও ছিল না।

আরশাদের ফর্মহীনতার পিছনে মাঠের বাইরের নানা সমস্যারও ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত বছর কোচ সলমন বাটকে রাখাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান অ্যামেচার অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সঙ্গে বিরোধের পর থেকে সংস্থাটি তাঁর প্রস্তুতি থেকে কার্যত সরে দাঁড়ায়।

আরশাদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, গত বছরের শেষ দিক থেকে পিএএএফ এবং পাকিস্তান স্পোর্টস বোর্ড (পিএসবি) তাঁর প্রস্তুতির ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সহযোগিতা করেনি। বিদেশি কোচ বা প্রশিক্ষক নিয়োগের জন্য অর্থ বরাদ্দও দেওয়া হয়নি। এমনকি প্রশিক্ষণসংক্রান্ত তাঁর কয়েকটি অনুরোধও উপেক্ষিত হয়েছে বলে অভিযোগ।

পাকিস্তানের প্রাক্তন অলিম্পিক ব্রোঞ্জজয়ী বক্সার হুসেন শাহ বলেন, “আরশাদ একজন স্বনির্মিত অ্যাথলিট। গ্রামের সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে পাকিস্তানকে অলিম্পিক ও আন্তর্জাতিক আসরে গৌরব এনে দিয়েছে। অথচ কমনওয়েলথ গেমসের মতো বড় আসরের জন্য যথাযথ প্রস্তুতির সুযোগ পায়নি। এটি দেশের ক্রীড়া ব্যবস্থার জন্য দুঃখজনক চিত্র।”

এদিকে পাকিস্তানের মহিলা বক্সার ফাতিমা জেহরাও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। কমনওয়েলথ গেমসে ব্রোঞ্জ জয়ী এই বক্সারের দাবি, আরও উন্নত প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সুযোগ পেলে তিনি স্বর্ণপদক জিততে পারতেন।

উল্লেখ্য, ৩৬ সদস্যের দল নিয়ে কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নেওয়া পাকিস্তানের হয়ে এখন পর্যন্ত একমাত্র পদকটি জিতেছেন ফাতিমা জেহরা।