আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের তারকা জ্যাভলিন থ্রোয়ার নীরজ চোপড়ার কেরিয়ার যেন সাফল্যের এক অনন্য অধ্যায়। ২০১৬ সালে দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে সোনা জিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের আগমনের বার্তা দেন তিনি। এরপর ২০১৭ সালের এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০১৮ সালের কমনওয়েলথ গেমস, এশিয়ান গেমস এবং শেষ পর্যন্ত টোকিও অলিম্পিকে ঐতিহাসিক সোনাজয়, প্রতিটি সাফল্যের সঙ্গে নিজেকে ভারতের ‘গোল্ডেন বয়’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন নীরজ।

তবে গত তিন বছরে সেই ধারাবাহিক সোনা জয়ের পুনরাবৃত্তি করতে পারেননি ভারতের এই তারকা। চোট-আঘাতের সমস্যা বারবার তাঁর ছন্দ নষ্ট করেছে। এর মধ্যেই অ্যাথলেটিক্স মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, নীরজ কি নিজের সেরাটা পেরিয়ে এসেছেন? নাকি বিশ্ব জ্যাভলিনে প্রতিযোগিতার মান এতটাই বেড়েছে যে ব্যবধান অনেক কমে এসেছে?

২০২৩ সালের এশিয়ান গেমসে সোনা জেতার পর থেকে নীরজ একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিয়মিত পদক জিতলেও সোনার দেখা পাননি। অলিম্পিকে ৮৯.৪৫ মিটার জ্যাভলিন ছুড়ে ইতিহাস গড়েছিলেন নীরজ। ঘরে তুলেছিলেন রুপো। তবে পাকিস্তানের আরশাদ নাদিম ৯২.৯৭ মিটার জ্যাভলিন ছুড়ে অলিম্পিক রেকর্ড গড়ে সোনা দখল করেন।

গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসে নীরজ ৮৫.৮৩ মিটার জ্যাভলিন ছুড়ে রুপো জেতেন। ওই প্রতিযোগিতায় পাথিরাগে ৮৯.৭৫ মিটার ছুড়ে সোনা নিশ্চিত করেন।

তবে পরিসংখ্যান বলছে, নীরজের পারফরম্যান্সে বড় ধরনের অবনতি হয়নি। বরং বিশ্ব জ্যাভলিনে প্রতিযোগিতার মান আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, গ্রেনাডা-সহ একাধিক দেশের অ্যাথলিট এখন নিয়মিত ৯০ মিটারের কাছাকাছি বা তারও বেশি দূরত্বে জ্যাভলিন ছুড়ছেন।

২০২৫ সালের মে মাসে দোহা ডায়মন্ড লিগে প্রথমবার ৯০ মিটারের গণ্ডি পেরিয়ে ৯০.২৩ মিটার নিক্ষেপ করেন নীরজ। সেটিই তাঁর ব্যক্তিগত সেরা এবং ভারতের জাতীয় রেকর্ড।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নীরজ এখনও বিশ্বের অন্যতম ধারাবাহিক ও শক্তিশালী জ্যাভলিন থ্রোয়ার। তবে শীর্ষ পর্যায়ে প্রতিযোগিতা এখন অনেক কঠিন। চোট সামলে ধারাবাহিকতা আরও বাড়াতে পারলেই রুপোর পদককে আবার সোনায় বদলে দেওয়ার সামর্থ্য তাঁর রয়েছে।

এক অর্থে নীরজ নিজের সাফল্যেরই শিকার। কারণ, ভারতের ক্রীড়াপ্রেমীরা তাঁকে এমন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন যে, জ্যাভলিনে সোনা ছাড়া অন্য কোনও ফলাফলকে অনেকেই প্রত্যাশার তুলনায় কম বলে মনে করেন। তাই আগামী দিনে নিজের সেরাটা ধরে রেখে আবারও শীর্ষস্থানে ফেরাই হবে ভারতের ‘গোল্ডেন বয়’-এর সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।