আজকাল ওয়েবডেস্ক: বেলফাস্টে বিপর্যয়। ভারতীয় ব্যাটিংয়ের ভরাডুবি। হার দিয়ে টি-২০ তে নেতৃত্ব শুরু করলেন শ্রেয়স আইয়ার। তাও আবার কাদের কাছে? আয়ারল্যান্ড। লজ্জার হার। বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের একি হাল! পুরো ২০ ওভারও খেলতে পারেনি। ১৮৩ রান তাড়া করতে নেমে ১৮.৫ ওভারে ১৪৮ রানে শেষ ভারতের ইনিংস। ৩৪ রানে জয় আইরিশদের। টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের পরের টুর্নামেন্টেই মুখ থুবড়ে পড়ল টিম ইন্ডিয়া। বিশ্বক্রিকেটের ইতিহাসে যেকোনও ফর্ম্যাটে আয়ারল্যান্ডের কাছে প্রথম হার। এর আগে আট সাক্ষাতে আটবারই জিতেছিল ভারত। এখনও পর্যন্ত বিশ্বক্রিকেটে মাত্র চারটে দলকে হারিয়েছে আয়ারল্যান্ড। সেই তালিকায় ঢুকে পড়ল ভারত। 

বিশ্বকাপজয়ী দলের টপ অর্ডার ভাঙেননি শ্রেয়স আইয়ার এবং গৌতম গম্ভীর জুটি। বিদেশের মাটিতে কোনও ঝুঁকি নিতে চাননি। তাই শত উন্মাদনা থাকা সত্ত্বেও সুযোগ দেওয়া হয়নি বৈভব সূর্যবংশীকে। কারণ? অভিজ্ঞতা। অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন, ঈশান কিষাণদের মধ্যে কাউকে বসিয়ে ১৫ বছরের তরুণকে সুযোগ দেওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি ভারতের হেড কোচ গম্ভীর। তাই ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে এই মুহূর্তে সবচেয়ে ছন্দে থাকা বৈভবকে ডাগআউটে বসে দেখতে হল দলের হার। 

শেষ ম্যাচে ২৯ বলে ৯৪ রানের ইনিংস খেলেছেন বিস্ময় বালক। মাত্র কয়েকদিন আগের কথা। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কা এ দলের বিরুদ্ধে। এদিন সুযোগ পেলেও যে বিদেশের মাটিতে সফল হতেনই, সেটা হলফ করে বলা যায় না। ব্যর্থও হতে পারতেন। তবে এরকম ছন্দে থাকা একজন ব্যাটারের সুযোগ প্রাপ্য ছিল। টপ অর্ডারে একমাত্র অভিষেক শর্মা ছাড়া বাকিরা ব্যর্থ। ৫০ করে আউট হন ভারতীয় ওপেনার। বাকিরা কেউ দুই অক্ষরের রানে পৌঁছতে পারেনি। সঞ্জু স্যামসন (৫), ঈশান কিষাণ (১), শ্রেয়স আইয়ার (৩)। নতুন অধিনায়ক এবং তাঁর ডেপুটিও রান পায়নি। ১৯ করে আউট হন তিলক বর্মা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান শিবম দুবের (২৫)।

আইপিএল খেলতে খেলতে ভারতীয় ব্যাটাররা ভুলেই গিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও একইভাবে খেলা যায় না। বিশেষ করে টুর্নামেন্ট যখন ভারতের বাইরে। ভারতীয় পিচে বাঘের মতো গর্জন করা ব্যাটাররা দেশের গণ্ডি পেরোতেই ইঁদুর। আয়ারল্যান্ডের পিচ বুঝতেই পারেনি। মানছি টুর্নামেন্টের প্রস্তুতিতে নেওয়ার খুব বেশি সুযোগ পায়নি শ্রেয়স আইয়াররা। তাই বলে এভাবে আত্মসমর্পণ! তাও আবার আয়ারল্যান্ডের প্রথম একাদশের সেরা ছ'জন না থাকা অবস্থায়। এদিন যেসব আইরিশরা খেলল, তাঁদের থেকে ক্রমতালিকায়, ধারে-ভারে, নাম-ডাকে অনেক এগিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটাররা। লরকান টাকার তবুও পরিচিত নাম। আয়ারল্যান্ডের অধিনায়ক। যারা নিয়মিত ক্রিকেটের খবরাখবর রাখে, তাঁরা জানে। কিন্তু আজকের আগে গ্যারেথ ডেলানি, ম্যাথিউ হামফ্রেজ, ম্যাট হলার্ড, জয় মুন্দ্রাদের নাম কে শুনেছিল? সেখানে ভারত পরপর দু'বার টি-২০ বিশ্বকাপজয়ী দল। নেই শুধু সেই দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব।

ম্যাচের শুরুটা খারাপ হয়নি। পাওয়ার প্লেতে ৩৬ রানে ৩ উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। প্রত্যাবর্তনে শুরুতেই জোড়া উইকেট তুলে নেন হর্ষিত রানা। কিন্তু লরকান টাকার (৫০) এবং গ্যারেথ ডেলানির (৪৯) পার্টনারশিপ আইরিশদের ম্যাচে ফেরায়। বাকিরা রান পায়নি। ২০ ওভারের শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রান তোলে আয়ারল্যান্ড। মোট ৩ উইকেট নেন হর্ষিত রানা। জোড়া উইকেট অর্শদীপ সিং এবং অক্ষর প্যাটেলের। এই মাঠে সর্বোচ্চ ১৭৪ রান তাড়া করে জেতার নজির ছিল। এর বেশি রান তাড়া করে কেউ জেতেনি। কিন্তু যেহেতু প্রতিপক্ষের নাম 'টিম ইন্ডিয়া', তারওপর ব্যাক টু ব্যাক বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড, এমন ভবিষ্যদ্বাণী অতিবড় ফুটবল বিশেষজ্ঞও করার সাহস পায়নি। ভাবা হয়েছিল, তারকাখচিত ব্যাটিং লাইনআপ এই টার্গেট তাড়া করে জিতবে। কিন্তু রান তাড়া করতে নেমে একের পর এক উইকেট ছুঁড়ে দেয়। পার্টনারশিপ গড়ার চেষ্টাই করেনি ভারতীয় ব্যাটাররা। অতীতে ঘরের মাঠে এমন আগ্রাসী ক্রিকেটের উদাহরণ তৈরি করেছে টিম ইন্ডিয়া। কিন্তু বিদেশের মাটিতেও কি সেটা সবসময় সম্ভব? নিজেদের দোষেই হার ভারতের। এবার কী অজুহাত দেবেন গম্ভীর, আইয়াররা?