আজকাল ওয়েবডেস্ক: অন্তর্বর্তী কোচ মাইকেল ক্যারিকের অধীনে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের আচমকা উত্থান বর্তমানে আর একেবারেই কাকতালীয় বলে মনে হচ্ছে না। শনিবার টটেনহ্যামের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স ২-০ জয় নিয়ে টানা চার ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছে ইউনাইটেড। পরপর চার ম্যাচে জয় ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের পরিবেশ বদলে দিয়েছে। প্রথম চারে শেষ করার স্বপ্নে নতুন করে বিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছে সমর্থকদের মধ্যে।
গত সপ্তাহে ফুলহ্যামের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগের বৈঠকে ক্যারিক খেলোয়াড়দের জানিয়ে দেন, সপ্তাহজুড়ে করা অনুশীলনের আসল পরীক্ষা হবে এই ম্যাচ। ম্যাঞ্চেস্টার সিটি ও আর্সেনালের মতো বড় দলের বিরুদ্ধে খেলার সময় দ্রুত কাউন্টার-অ্যাটাকের জন্য জায়গা পাওয়া গিয়েছিল, যা ইউনাইটেডের পরিকল্পনার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া গিয়েছিল। কিন্তু ফুলহ্যাম ম্যাচ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চ্যালেঞ্জ। রক্ষণ জমাট করা এক দলের বিরুদ্ধে ফরোয়ার্ডদের জন্য জায়গা তৈরি করা কঠিন ছিল। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে ক্যারিক বিশেষভাবে সেট-পিসে জোর দেন। সেই পরিকল্পনাই কাজে লাগে।
ব্রুনো ফার্নান্দেজের নিখুঁত ফ্রি-কিক থেকে ব্যাক পোস্টে উঠে এসে গোল করেন ক্যাসেমিরো। শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় ইউনাইটেড। ক্যারিকের ছেলেরা প্রমাণ করে দেন ইউনাইটেড শুধু গতিতে নয়, ধৈর্য আর পরিকল্পনার লড়াইয়েও জিততে পারে। ম্যান ইউতে ক্যারিক সবচেয়ে বড় সাফল্য দিয়েছেন ক্যাসেমিরো, ব্রুনো ফার্নান্দেজ এবং কোবি মাইনুর নিখুঁত মিডফিল্ড ত্রয়ীকে একসঙ্গে খেলিয়ে। তিন ফুটবলারকে তিন আলাদা ভূমিকা দিয়েছেন তিনি।
ক্যাসেমিরোকে যেমন ডিফেন্সিভ মিডের ভূমিকা দেওয়া হয়েছে, তেমনই ব্রুনো তার ক্রিয়েটিভ পাসে ফরোয়ার্ডদের জায়গা করে দিয়েছেন অন্যদিকে মাইনু মিডফিল্ডে বাড়তি ভারসাম্য এনে দিচ্ছেন।মাইকেল ক্যারিক অন্তর্বর্তী কোচ হওয়ার পর কোবি মাইনুর ভবিষ্যৎ নিয়েও পরিস্থিতি বদলে গেছে। ইউনাইটেডের কন্ট্রাক্টস টিম ও কোবির এজেন্সি CAA স্টেলারের মধ্যে নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কোবি মাইনুর বয়স মাত্র ২০, আগামী এপ্রিলে তার ২১ বছর পূর্ণ হবে। তার শান্ত স্বভাব ও ড্রিবলিং দক্ষতা ক্যারিকের খুবই পছন্দের, যা তিনি ইউনাইটেড অ্যাকাডেমি থেকেই লক্ষ্য করে আসছেন। ক্যারিকের ট্রেনিং সেশন নিয়েও মুগ্ধ ইউনাইটেডের খেলোয়াড়রা। তিনি নিজেই অনুশীলনে অংশ নেন। পাসিং ড্রিলের সময় ক্যারিকের দেওয়া দুটি পাসকে হ্যারি ম্যাগুয়ার ৩০০টির মধ্যে সেরা দুটি বলে উল্লেখ করেছেন।
১৯ বছর বয়সী হেভেনও প্রশংসা করেছেন কোচিং স্টাফদের, বিশেষ করে জনি ইভান্সের ভূমিকার। তিনি বলেন, 'সবকিছু খুব ভাল। জনি আমাকে বিশেষভাবে অনেক সাহায্য করেছেন। সেশন শেষ হওয়ার পর আমি আর লেনি ইয়োরো অতিরিক্ত অনুশীলন করি, বেসিক নিয়ে কাজ করি। ড্রিলের মাঝেও জনি আর জোনাথন উডগেট আমাদের পাশে ডেকে নিয়ে পজিশনিং নিয়ে পরামর্শ দেন। আমি সত্যিই উপভোগ করছি।' ম্যাঞ্চেস্টার সিটি, আর্সেনাল, ফুলহ্যাম ও টটেনহ্যামের বিপক্ষে টানা চার জয়ের পর একটা বিষয় স্পষ্ট, কোচ মাইকেল ক্যারিক, তার কৌশল ও পদ্ধতিকে পুরোপুরি গ্রহণ করেছে ইউনাইটেড স্কোয়াড। এই মানসিকতা বজায় থাকলে লিগ টেবিলের প্রথম চারে জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন বাস্তব রূপ পেতে পারে।
