আজকাল ওয়েবডেস্ক: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সেই বিখ্যাত লাইন, কেউ কথা রাখেনি। কেউ মনেও রাখে না। ফুটবলজগতেও যেন বারবার তারই প্রতিধ্বনি শোনা যায়। ইস্টবেঙ্গলকে সাফল্যের স্বাদ এনে দিয়ে একে একে চলে গিয়েছেন অনেকেই। কেউ আর্থিক প্রস্তাবের টানে, কেউ নতুন চ্যালেঞ্জের খোঁজে। মিগুয়েল, অস্কার ব্রুজোঁ--স্মৃতির পাতায় তাঁদের অবদান উজ্জ্বল, কিন্তু তাঁরা আজ আর লাল-হলুদের অংশ নন।
এই সময়েই আলাদা করে চোখে পড়েন মহম্মদ রশিদ। তিনি যেন অন্য ধাতুতে গড়া এক মানুষ, এক ফুটবলার। ক্লাবের অনিশ্চয়তার দিনে, নানা জল্পনা-কল্পনার মাঝেও তিনি ইস্টবেঙ্গলের হাত ছাড়েননি। বরং থেকে গিয়েছেন, পাশে দাঁড়িয়েছেন, নিজের দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়েছেন।
সেই কারণেই সমর্থকদের হৃদয়ে তাঁর জন্য আলাদা জায়গা তৈরি হয়েছে। ইস্টবেঙ্গল ফ্যান ক্লাবের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেদন জানানো হয়েছে, আগামী মরশুমে রশিদ যখন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন, তখন যেন তাঁকে এক রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। কারণ শুধু সেই অমূল্য গোলের জন্য নয়, যে গোল ইস্টবেঙ্গলকে খেতাব এনে দিয়েছিল, তার থেকেও বড় বিষয় হলো, তিনি আবারও ইস্টবেঙ্গলকেই বেছে নিয়েছেন। ক্লাব ও সমর্থকদের প্রতি তাঁর এই ভালবাসা, এই অঙ্গীকার, এই আনুগত্য সত্যিই বিরল।
আসলে মানুষকে চিনতে গেলে সবসময় বড় বড় ঘটনা লাগে না। ছোট ছোট আচরণ, সঙ্কটের মুহূর্তে নেওয়া সিদ্ধান্তই মানুষের চরিত্রের আসল পরিচয় দেয়। রশিদের মধ্যে সেই বিরল মানবিকতার ছাপ স্পষ্ট। তিনি নিজেই বলেছেন, আমার দেশে আমি উদ্বাস্তু। আমি উদ্বাস্তুদের যন্ত্রণা বুঝি। সেই কারণেই হয়তো ইস্টবেঙ্গলের ইতিহাস, সংগ্রাম আর আবেগের সঙ্গে তিনি একাত্মতা খুঁজে পান।
রশিদের মতো মানুষ খারাপ সময়ে কাউকে ছেড়ে চলে যান না। তাঁকে বিশ্বাস করা যায়। তিনি জানেন সম্পর্কের মূল্য, জানেন সমর্থকদের ভালবাসার মর্যাদা দিতে হয়।
আগামী মরশুমে জিকসন, নন্দকুমার, আনোয়ারদের সঙ্গে নিয়ে রশিদের লড়াই দেখতে পাবেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা। সেই ইস্টবেঙ্গল এমন এক দল, যারা শুধু মাঠে লড়াই করবে না, সমর্থকদের স্বপ্নও বহন করবে। আর রশিদ নিজেও চান, যে অগাধ ভালবাসা তিনি গ্যালারি থেকে পেয়েছেন, তার প্রতিদান দিতে। কারণ কিছু ফুটবলার শুধু দলের সদস্য হন না, তাঁরা ধীরে ধীরে ক্লাবের আত্মার অংশ হয়ে ওঠেন। মহম্মদ রশিদ ঠিক তেমনই একজন।















