আজকাল ওয়েবডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মঙ্গলবার মুখোমুখি হচ্ছে জিম্বাবোয়ে এবং আয়ারল্যান্ড। কিন্তু এটা শুধু বিশ্বকাপের জিম্বাবোয়ে বনাম আয়ারল্যান্ড ম্যাচ নয়।
এই ম্যাচের ওপর নির্ভর করছে তিনটি দেশের ভাগ্য। একদিকে ইতিহাস গড়ার মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে জিম্বাবোয়ে, মরণ-বাঁচন লড়াইয়ে আয়ারল্যান্ড, আর সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া।
টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চমক দেওয়ার পর জিম্বাবোয়ের বর্তমানে দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট। তারা +১.৯৮৪ নেট রান রেট নিয়ে সুবিধার জায়গায় রয়েছে।
মঙ্গলবার আয়ারল্যান্ডকে হারাতে পারলেই তারা ছয় পয়েন্টে পৌঁছে প্রথমবারের মতো সুপার এইটে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করবে। আর এই ঘটনা ঘটলে সবচেয়ে বড় খবর? গ্রুপ পর্ব থেকেই অস্ট্রেলিয়া ছিটকে যাবে।
অস্ট্রেলিয়ার ঝুলিতে রয়েছে তিন ম্যাচে মাত্র দুই পয়েন্ট। তাদের নেট রান রেট +০.৪১৪। তারা কার্যত টিকে আছে এই ম্যাচের অপেক্ষায়। ইতিমধ্যেই টানা তিন জয়ে সুপার এইটের নিজেদের জায়গা পাকা করেছে শ্রীলঙ্কা।
অন্যদিকে, বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই ওমান বিদায় নিয়েছে। ফলে, গ্রুপে আর একটি জায়গার জন্য লড়াই করছে তিনটি দল। তবে সমীকরণটা একেবারে পরিষ্কার।
জিম্বাবোয়ে জিতলে তারা কোয়ালিফাই করবে, অস্ট্রেলিয়া বিদায় নেবে। আয়ারল্যান্ড জিতলে গ্রুপের হিসাব পুরো উলটে যাবে। জিম্বাবোয়ে থাকবে চার পয়েন্টে। অস্ট্রেলিয়া ওমানকে হারালে তারাও চার পয়েন্টে পৌঁছতে পারে।
তখন লড়াই গড়াবে নেট রান রেটে। জিম্বাবোয়ের শেষ ম্যাচ ১৯ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে। ফলে, সমস্ত হিসাব গিয়ে দাঁড়াবে সেই কলম্বোর ম্যাচে। যোগ্যতা অর্জন করা শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে জিম্বাবোয়েকে।
সেই ম্যাচে শ্রীলঙ্কা হারলে শেষ পর্যন্ত সবকিছু নির্ধারিত হতে পারে নেট রান রেটে। তবে মঙ্গলবারের ম্যাচ জিম্বাবোয়ের কাছে ইতিহাস গড়ার সুযোগ।
এখনও পর্যন্ত সাতবারের চেষ্টায় তারা কখনও সুপার এইটে পৌঁছাতে পারেনি। এবারই সবচেয়ে বড় সুযোগ রয়েছে তাদের কাছে। জয়ের আত্মবিশ্বাস রয়েছে দলে, ফর্মে রয়েছেন ক্রিকেটাররা, নিজেদের ভাগ্য রয়েছে নিজেদের হাতেই।
আয়ারল্যান্ডের জন্য সমীকরণ আলাদা হলেও এই ম্যাচের গুরুত্ব কম নয়। তিন ম্যাচে দুই পয়েন্ট নিয়ে তারা এখনও লড়াইয়ে টিকে আছে। আজ জিততে পারলে অন্তত অঙ্কের খাতিরে সুপার এইটে ওঠার সম্ভাবনা থাকবে।
অন্যদিক থেকে চাপে ফেলে দেওয়া যাবে অস্ট্রেলিয়াকেও। এক কথায় বলা যেতেই পারে, এটি কার্যত নকআউট ম্যাচ শুধু অংশগ্রহণকারী দুই দলের জন্য নয়, অস্ট্রেলিয়ার জন্যও।
