আজকাল ওয়েবডেস্ক: চাপের ম্যাচে অনবদ্য ইনিংস খেলে ভারতকে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুলে দেওয়ার পাশাপাশি সীমান্তের ওপার থেকেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন ভারতের তারকা ব্যাটার সঞ্জু স্যামসন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে পাঁচ উইকেটের রুদ্ধশ্বাস জয়ে অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এই জয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। ম্যাচ শেষ হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়ার বন্যা বয়ে যায়।
পাকিস্তানের বহু ক্রিকেটপ্রেমীও স্যামসনের ম্যাচজয়ী ইনিংসের প্রশংসায় মুখর হন। অনেকেই চাপের মধ্যে তার ব্যাটিংকে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ‘ক্লাচ পারফরম্যান্স’ বলে উল্লেখ করেন।
এক পাকিস্তানি সমর্থক লিখেছেন, ‘সঞ্জু স্যামসন যে দুর্দান্ত ইনিংসটা খেলল, এটাই বড় ম্যাচের ইনিংস।’ অন্য আর এক ক্রিকেট ভক্ত স্যামসনের ইনিংসের সঙ্গে ভারতের তারকা ব্যাটার বিরাট কোহলির বিখ্যাত রান তাড়া করার ইনিংসগুলোর তুলনা টানেন।
তিনি লেখেন, ‘এই ইনিংস আমাকে কোহলির ক্লাসিক চেজগুলোর কথা মনে করিয়ে দিল, শান্ত, হিসেবি ও নির্ভীক।’ অনেকে আবার স্যামসনের ধৈর্যের কথাও তুলে ধরেছেন।
দলে আসা-যাওয়া, আপ-ডাউনের মধ্যে থেকেও সুযোগ পেয়ে তিনি তা কাজে লাগিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন এক ভক্ত। আরেকজন লিখেছেন, ‘দলে অনিশ্চয়তা সহজ নয়, কিন্তু সুযোগ পেয়ে সঞ্জু সেটাই কাজে লাগিয়েছে।’
প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশ বলেন, ক্রিকেট সবসময় সীমান্তের ঊর্ধ্বে। ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতা আলাদা, কিন্তু চাপের মধ্যে এই ইনিংস নিখাদ ক্লাস,’ এমন মন্তব্যও দেখা গেছে।
সেঞ্চুরি থেকে মাত্র তিন রান দূরে থেমে গেলেও স্যামসনের ৯৭ রানের ইনিংসই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে। আর অনলাইনের প্রতিক্রিয়া বলছে, এই ইনিংস শুধু ভারতকে জয়ই দেয়নি, প্রতিপক্ষ দেশের সমর্থকদের কাছ থেকেও সম্মান আদায় করে নিয়েছে।
আগের দিনই সৌরভ গাঙ্গুলি জানিয়েছিলেন, ইডেনের উইকেটে ২০০ রান হবে। এদিন কমপক্ষে ২৫-৩০ রান কম হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের। যার দায় ক্যারিবিয়ান ওপেনারদের। শুরুতে সাই হোপের অত্যধিক মন্থর ব্যাটিং।
যার ফলে পাওয়া প্লের ফায়দা তুলতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এটাকে হারের অন্যতম কারণ হিসেবে ধরছেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক। দায় নিজের কাঁধে তুলে নেন।
হোপ বলেন, 'আমি হারের দায় নিজের কাঁধে নেব। ব্যাট করার সময় গতি আরও বাড়ানো উচিত ছিল। আজকে আমি সুবিধা করতে পারিনি। নামার পর থেকে প্রত্যেক বলে মারতে পারলে ভাল হত। কিন্তু পারিনি। ওরা ভাল বল করেছে। অধিনায়কের সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সেটা এদিন হয়নি।'
পাওয়ার প্লে কাজে না লাগাতে পাড়ার আফশোস কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে হোপকে। জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে পাওয়ার প্লের ফায়দা তুলতে গিয়ে দ্রুত ৫-৬ উইকেট হারায় তাঁরা।
তাই এদিন শুরুর দিকে কিছুটা সংযত দেখায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের। তবে তাঁদের আরও দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করা উচিত ছিল। টস হারের ভাগ্যকেও দুষলেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক।
দাবি করেন, ইডেনের মতো স্টেডিয়ামে টসে জেতা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ক্রিকেটের নন্দনকাননে রান তাড়া করে জেতার নজির একাধিক। হারের ফলে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
দশ বছর আগে এই ইডেনেই সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের বিশ্বকাপ জেতেন ড্যারেন স্যামিরা। ম্যাচের নায়ক ছিলেন কার্লোস ব্রেথওয়েট। কিন্তু এবার খালি হাতেই ক্যারিবিয়ানদের ফেরাল ইডেন। জয়ের ফলে সেমিফাইনালে ভারত। সূর্যকুমারদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।
