আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে প্রশংসায় ছয়লাপ সূর্যকুমাররা। বাদ যায়নি পাকিস্তানের ক্রিকেটাররাও। টিম ইন্ডিয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেন জাভেদ মিয়াঁদাদ, শোয়েব আখতার, রশিদ লতিফরা। মিয়াঁদাদ জানান, যে দল সেমিফাইনাল এবং ফাইনালে ২৫০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায়, তাঁরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার যোগ্য। মিয়াঁদাদ বলেন, 'শক্তিশালী ক্রিকেট পরিকাঠামোর ফল পাচ্ছে ভারত। দারুণ সব প্রতিভা উঠে আসছে। ব্যাটার, স্পিনার, ফাস্ট বোলারদের কোনও কমতি নেই। তরুণ প্লেয়ারদেরও খেলা সম্বন্ধে সতর্কতা আছে।' ভারতের সাফল্যের জন্য ড্রেসিংরুমের পরিবেশকেও কৃতিত্ব দেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি। একইসঙ্গে নিজেদের অতীতের সঙ্গে তুলনা টেনে আক্ষেপ করেন। মিয়াঁদাদ বলেন, 'একসময় এমন পরিবেশ আমাদের ড্রেসিংরুমে ছিল। আমরা নিয়মিত জিততাম।' 

মিয়াঁদাদের সঙ্গে একমত রশিদ লতিফ। জানান, ভারতের এই সাফল্যে আশ্চর্য নন তিনি। কারণ চাপের মধ্যে খেলতে অভ্যস্ত টিম ইন্ডিয়ার ক্রিকেটাররা। লতিফ বলেন, 'নিয়মিত বড় ইভেন্টের ফাইনালে উঠলে, জয় অভ্যেসে পরিণত হয়।' পাশাপাশি পাকিস্তানের প্রাক্তন উইকেটকিপার ব্যাটার দাবি করেন, স্থায়িত্ব এবং ধারাবাহিকতা ভারতের সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি। যা তাঁদের ক্রিকেটে মিসিং। নিয়মিত দল বদল করা হয়। প্লেয়ারদের ওপর আস্থা রাখা হয় না। পাকিস্তান ক্রিকেটের ভুল খুঁজে বের করেন প্রাক্তন টেস্ট পেসার সিকন্দর ভক্ত। জানান, সংস্কৃতি বদল না করলে, সাফল্য আসবে না ক্রিকেটে। সিকন্দর বলেন, 'আমাদের ব্যর্থতার জন্য অজুহাত খোঁজা বন্ধ করতে হবে, এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।' গতবছর পাকিস্তানের মেয়েদের দলের কোচ ছিলেন প্রাক্তন টেস্ট ব্যাটার এবং মুখ্য নির্বাচক মহম্মদ ওয়াসিম। তিনি দাবি করেন, যতদিন না ক্রিকেটে ভারতের শ্রেষ্ঠত্ব মানবে পাকিস্তান, পরিস্থিতি বদলাবে না। মহম্মদ ওয়াসিম বলেন, 'ভারতের কাছে হারলেই বা বড় টুর্নামেন্টে ওরা ভাল করলে আমরা ভুল খুঁজি এবং ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাই। আমাদের সেটা থামাতে হবে। মেনে নিতে হবে ওরা সেরা। আমাদের নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে।' পাকিস্তানের প্রাক্তন হেড কোচ মহসিন খান মনে করেন, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড লাল বলের ক্রিকেটে জোর দেওয়ায় প্রতিভা উঠে আসছে। পাশাপাশি দাবি করেন, ভারতীয় প্লেয়ারদের মধ্যে কোনও নিরাপত্তাহীনতা নেই। কারণ তাঁদের বোর্ড ভাল দেখভাল করে। এটাই নিজেদের উজাড় করে দিতে সাহায্য করে। বিশ্বকাপ জয়ের পর ভারতীয় দলের প্রশংসার পাশাপাশি পাকিস্তানের ক্রিকেট নিয়ে হতাশা ধরা পড়ে প্রাক্তনীদের গলায়।