আজকাল ওয়েবডেস্ক: রবিবাসরীয় ইডেনে স্বর্গীয় পরিবেশ। চক দে ইন্ডিয়া থেকে শুরু করে একের পর এক দেশাত্মবোধক গান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা চার-ছক্কা হাঁকালেও, এক মুহূর্তের জন্যও ম্রিয়মাণ হয়নি ইডেন।

প্রথম বল থেকেই গ্যালারি চনমনে। মুম্বই, বেঙ্গালুরুতে ম্যাচ হলেই বলিউডের তারকাদের লেন্সবন্দি করা যায়। কলকাতায় সেই চিত্র দেখা যায় আইপিএলে। ইডেন কম তারকাকে দেখেনি।

শাহরুখ খান, জুহি চাওলা তো আছেই, এছাড়াও কোটিপতি লিগে একের পর এক স্টারের পা পড়েছে ক্রিকেটের নন্দনকাননে। এদিন ইডেনে হাজির টলিউডের জনপ্রিয় জুটি যশ দাশগুপ্ত এবং নুসরাত জাহান। এছাড়াও ছিলেন বাংলার আরেক তারকা অঙ্কুশ হাজরা। 

এদিন মাঠে দেখা যায় বাবুল সুপ্রিয় এবং অশোক দিন্দাকেও। পাশাপাশি, বেশ কিছু ইংল্যান্ড সমর্থক এদিন কলকাতায় খেলা দেখতে এসেছিলেন। তাঁদের সমর্থন ভারতের দিকেই।

ম্যাচ শুরুর আগেই ইডেনে হাজির আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ। সিএবির সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলির পাশে বসে দেখেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস। তাঁর বিভিন্ন অভিব্যক্তি ধরা পড়ে লেন্সে। রবিবাসরীয় ইডেন।

বিগ কোয়ার্টার ফাইনাল। সুপার এইটের শেষ ম্যাচ হলেও নক আউট। তাই কোয়ার্টারের অ্যাখ্যা পায়। সাধারণত ম্যাচের দিন ইডেনের গেট দু'ঘণ্টা আগে খুলে দেওয়া হয়।

কিন্তু হাইভোল্টেজ ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের জন্য প্রায় সাড়ে চারটেয় ক্রিকেটের নন্দনকাননের দরজা খুলে দেওয়া হয়। চলতি টি-২০ বিশ্বকাপে ইডেনে প্রথম রাতের ম্যাচ। সেজে উঠেছিল স্টেডিয়াম।

দুই ইনিংসের বিরতিতে জাঁকজমক লেজার শো হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হয়নি। ভারতের ইনিংসের পাওয়ার প্লের পর হয় লেজার শো। পুরো অন্ধকার করে দেওয়া হয় স্টেডিয়াম।

২ উইকেট জুটিতে ভারতের রান তখন ৫৩। উইকেটে সূর্যকুমার যাদব এবং সঞ্জু স্যামসন। ২ মিনিট ধরে চলে লেজার শো। ম্যাচ শেষে বাজি প্রদর্শনী হতে পারে। 

এবার বিশ্বকাপের মোট সাতটি ম্যাচ পায় কলকাতা। তারমধ্যে ভারতের ম্যাচ মাত্র একটি। তবে কোনও কার্পণ্য করেনি কলকাতার ক্রিকেটপ্রেমীরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ-স্কটল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে ইডেনে বিশ্বকাপের বোধন হয়।

ইংল্যান্ড, ইতালিও খেলে কলকাতায়।‌ ইডেনের গ্যালারি ফাঁকা থাকেনি। প্রত্যাশা মতো রবিবার সবচেয়ে বেশি দর্শকসংখ্যা ক্রিকেটের নন্দনকাননে। সন্ধে আটটায় সেই সংখ্যা ছিল ৫৭,৬৭৫। ভারত জিতুক বা না জিতুক, বিশ্বকাপে মন জয় করেছে ইডেন।