আজকাল ওয়েবডেস্ক: হার্দিক পাণ্ডেয়া, অভিষেক শর্মা, তিলক ভার্মারা ছিলেন তাই। বৃহস্পতিবার জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে রানটা ২৫৭ না হয়ে যদি আর একটু কম হত তাহলেই হয়ে গিয়েছিল।

এদিন খাতায় কলমে গ্রুপের সবথেকে দুর্বল দলের বিরুদ্ধে ভারতীয় বোলিংয়ের হতশ্রী চেহারা বেরিয়ে গেল। যদিও ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে এদিন সিকান্দর রাজাদের ৭২ রানে হারাল টিম ইন্ডিয়া। এখনও বেঁচে রইল সেমিফাইনালের আশা।

এদিন চিপকে শুরু থেকেই মারমুখী ছিল টিম ইন্ডিয়া। বড় রান তুলে চাপ সৃষ্টি করাটাই লক্ষ্য ছিল। শুরুতেই মারমুখী ভঙ্গিমায় ইনিংস শুরু করেন সঞ্জু স্যামসন।

তবে গত কয়েক ম্যাচে যেমন শুরুতেই উইকেট পড়ে চাপ তৈরি হচ্ছিল এদিন তেমনটা হয়নি। ২৪ রান করে স্যামসন ফিরলেও ইনিংসে গতি দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। অভিষেক শর্মা এবং ঈশান কিষাণও এদিন পরিণত ক্রিকেট খেলেন।

দুই বাঁহাতি ব্যাটারই এদিন বল বুঝে খেলছিলেন। ফলে, বাউন্ডারির সঙ্গে সঙ্গে সিঙ্গেল, ডাবল আসতে থাকায় ভারতের রান তোলার গতি একবারের জন্য কম হয়নি।

এদিন অর্ধশতরান করে বিশ্বকাপে অবশেষে ফর্মে ফিরলেন অভিষেক শর্মা। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন ঈশান কিষাণ। অভিষেক করেন ৫৫ রান এবং ঈশান ফেরেন ২৪ বলে ৩৮ করে।

এদিন যে টিম ইন্ডিয়ার মাইন্ডসেট অন্যরকম ছিল তা প্রমাণ করেন অধিনায়ক স্কাই। নেমেই খাতা খোলেন বাউন্ডারি দিয়ে। বড় রানে লক্ষ্যে তিলকের আগে নামানো হয় হার্দিককে।

একসময় মনে হচ্ছিল ২২০ কিংবা ২৩০ রানে গিয়ে থামবে টিম ইন্ডিয়া। তবে হার্দিক(৫০) এবং স্কাই(৩৩) যেভাবে গিয়ার বদলালেন ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে ম্য়াচের আগে তা ভরসা দেবে গৌতম গম্ভীরকে।

এদিন ব্যাট করার সুযোগই পেলেন না শিবম দুবে। তবে টুইস্ট বাকি ছিল দ্বিতীয় ইনিংসে। মনে হচ্ছিল, রানের পাহাড়ে আত্মসমর্পণ করবে জিম্বাবোয়ে।

কিন্তু হল উল্টোটা। বরুণ চক্রবর্তী, শিবম দুবে, অক্ষর প্যাটেল কেউ বাদ গেলেন না। জিম্বাবোয়ের ব্রায়ান বেনেট যে লড়াইটা লড়লেন সেটাকে র্কুনিশ না জানিয়ে পারা যায় না।

এদিন শুরুতে টিম ইন্ডিয়া উইকেট পায়নি। দুই ওপেনার বেনেট এবং মারুমনি ধীরগতিতে শুরু করলেও উইকেট দিচ্ছিলেন না সহজে।

পাওয়ার প্লে-র শেষে প্রথম উইকেট পায় ভারত। উল্টোদিকে একের পর এক উইকেট পড়লেও লড়াই জারি রেখেছিলেন বেনেট। তাঁকে সঙ্গ দেন অধিনায়ক সিকান্দর রাজাও।

কিন্তু রান এতটাই বেশি ছিল যে চালাতে গিয়ে উইকেট হারান সিকান্দর। তারপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি জিম্বাবোয়ে দল। টিম ইন্ডিয়ার ডেথ ওভার বোলিংয়ের কাছে বেনেট ছাড়া সকলেই হাত তুলে দেন। বেনেট অপরাজিত রইলেন ৯৭ রানে।

রবিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে বোলিং বিভাগ থেকে যথেষ্ট খাটতে হবে গম্ভীরকে এটা তো বলাই যায়। ইডেনের মাঠ অনেকটাই ছোট।

এদিন শেষের দিকে শিবম দুবে দু'ওভার বল করে খেলেন ৪৬ রান। তার মধ্যে একাধিক নো বল, ওয়াইড বল তো রয়েছেই। ইডেনের ছোট মাঠে শক্তিশালী ক্যারিবিয়ানদের সামনে এই বোলিং করলে কপালে দুঃখ আছে।

সেই ভেবেই হয়তো ম্যাচের শেষে এদিন নেটে বল করতে দেখা গেল হার্দিককে। রবিরার ভারতের জন্য ডু অর ডাই ম্যাচ। তার আগে বোলিং বিভাগকে উন্নত করতে মরিয়া ম্যানেজমেন্ট।