আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে হোটেল ভাড়া, বিমান ভাড়া বাড়ার ঘটনা প্রথম নয়। দু'বছর আগে আহমেদাবাদে ভারত-অস্ট্রেলিয়া একদিনের বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে একই চিত্র দেখা গিয়েছিল। ফাইনালের টিকিট কাটতে অনেকেরই পকেট থেকে খসে ৫০ হাজার। হোটেল, বিমানের ভাড়া ছিল আকাশছোঁয়া। এবারও তেমনই ছবি আহমেদাবাদে। বরং, আরও বেশি বললে ভুল হবে না। রবিবার ভারত-নিউজিল্যান্ড ফাইনাল। তার আগের দিন ধরাছোঁয়ার বাইরে বিমানের টিকিট থেকে শুরু করে হোটেল ভাড়া। টি-২০ ফাইনাল দেখতে হলে ন্যূনতম কত খরচ হবে জানেন? 

হোটেলের ভাড়া ৩০০ থেকে ৪০০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। অর্থাৎ, আসল ভাড়ার থেকে চারশোগুণ। গুজরাটের হোটেল এবং রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নরেন্দ্র সোমানি জানান, খেলা দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং বিদেশ থেকে সমর্থকরা আসছে। তাই হোটেলের দাম চারশো শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। সোমানি বলেন, 'টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালকে কেন্দ্র করে হোটেলের ঘরভাড়া ৩০০ থেকে ৪০০ শতাংশ বেড়েছে। যে ঘরগুলো ৫০০০ থেকে ২০,০০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছিল, সেগুলো ১৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ হয়ে গিয়েছে।' 

অনলাইনে হোটেল বুক করতে গেলেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সিন্ধু ভবন রোডে তাজ স্কাইলাইনে রবিবার দু'জনের জন্য ডিলাক্স রুম বুক করার খরচ পড়বে ২.০১ লক্ষ, তাছাড়া ৩৬,০০০ জিএসটি। সাধারণ দিনে এখানে রুমের ভাড়া ৯০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা। অর্থাৎ, ২০ গুণ বেড়েছে। আশ্রম রোডে ওয়েলকাম হোটেলে এক রাতের জন্য থাকতে হলে ২০,৯৫০ টাকা খরচ করতে হবে। যা সাধারণত ৬০০০ থেকে ৮০০০ এর মধ্যে থাকে। ম্যাচের রাতে হায়াত রিজেন্সিতে রুমের ভাড়া ৩০,০০০। যা সাধারণ দিনের থেকে চারগুণ বেশি। আহমেদাবাদে প্রায় ১০,০০০ হোটেলের ঘর আছে। এখনও সবকিছু সোল্ড আউট না হলেও, দাম আকাশছোঁয়া। গুজরাটের হোটেল এবং রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির ধারণা, রবিবার রাতে ৮০ শতাংশ হোটেল ভরে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই আহমেদাবাদে রাতে থাকতে পারছে না। বিকল্প ব্যবস্থায় খোঁজ চলছে। অনেকেই গন্ধীনগরে থাকছে। যা আহমেদাবাদের থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে। অনেকে আবার একই দিনে ফেরত যাচ্ছে। মুম্বই থেকে অনেকেই নিজেদের গাড়ি নিয়ে আসছে ফাইনাল দেখতে। তাঁরা রাতেই ম্যাচের পর ফিরে যাবে। গুজরাটের বিভিন্ন শহরের সমর্থকরাও একই প্ল্যান করছে। শুধুমাত্র ভারতীয়রা নয়, বিদেশিরাও আসছে ফাইনাল দেখতে। 

এত গেল হোটেলের কথা। বিমান ভাড়াও চারগুণ বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে মুম্বই, দিল্লি, বেঙ্গালুরু থেকে আহমেদাবাদের ফ্লাইট। যার ফলে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুম্বই-আহমেদাবাদের ভাড়া সাধারণত ৩০০০ এর আশেপাশে হয়। সেটা ১৫,০০০ থেকে ১৭,০০০ হয়ে গিয়েছে। দিল্লি থেকে আহমেদাবাদের বিমান ভাড়া‌ ১৪,০০০। বেঙ্গালুরু থেকে ১৩,০০০। যার ফলে একাধিক শাখায় বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রবিবার মুম্বই থেকে আহমেদাবাদের মধ্যে বিশেষ ট্রেন দেওয়া হয়েছে। দিল্লি থেকে আহমেদাবাদের যাওয়ারও বিশেষ ট্রেন দেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার টাকা খরচ করে ভারত-নিউজিল্যান্ড ফাইনাল দেখতে যাচ্ছে সমর্থকরা। ঠিক যেমন দু'বছর আগে হয়েছিল। কিন্তু জোটে শুধুই হতাশা। আশা করা যাচ্ছে, এবার তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।