আজকাল ওয়েবডেস্ক: আহমেদাবাদে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের টস হয়ে গেল। এদিন টসে জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নিলেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার।

ভারতের একাদশ অপরিবর্তিত। সূর্যকুমার যাদব জানালেন, প্রথমে ব্যাট করতে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। বড় রান করে ডিফেন্ড করার ক্ষমতা রয়েছে বোলারদের।

নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার জানালেন, 'প্রথমে বল করে ছোট রানের মধ্যে ভারতীয় ব্যাটিংকে আটকানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।' নিউজিল্যান্ডের একাদশে একটি বদল হয়েছে।

মিচেল স্যান্টনার জানালেন, কোল ম্যাকঙ্কিকে ফাইনালে বসানো হয়েছে। তাঁর জায়গায় খেলানো হচ্ছে জেকব ডাফিকে। এদিন কিউই দলে কোনও অফ-স্পিনার খেলছেন না। শুধুমাত্র গ্লেন ফিলিপস পার্ট টাইম অফ স্পিনার হিসেবে হাত ঘোরাতে পারেন।

বিশ্বমঞ্চে ভারতের বিরুদ্ধে রেকর্ড ভাল কিউয়িদের। পরিসংখ্যান দেখলে চক্ষু চড়কগাছ হবে ভারতীয় সমর্থকদের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে অপরাজিত নিউজিল্যান্ড। 

এখনও পর্যন্ত তিনবার মুখোমুখি হয়েছে। তিনবারই জিতেছে কিউয়িরা। যদিও এই পরিসংখ্যান দিয়ে তাঁদের ফাইনালের ফেভারিট বলা যায় না। তবে অতীত রেকর্ডকে সম্ভল করে একটা মরণ কামড় দেওয়ার চেষ্টা করবে ব্ল্যাক ক্যাপসরা। 

আইসিসি ইভেন্টে মোট ১৯বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দেশ। তারমধ্যে মাত্র ছ'বার জিতেছে ভারত। অর্থাৎ, সার্বিক পরিসংখ্যানে সূর্যকুমারদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে মিচেল স্যান্টনাররা।

তবে আশ্চর্যের বিষয় হল, যে ফরম্যাটই হোক না কেন, দ্বিপাক্ষিক সিরিজে সাধারণত নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দেয় ভারত। কিন্তু আইসিসি ইভেন্টে এই পরিসংখ্যান পুরো বদলে যায়। কেন এমন হয়?

এর অন্যতম প্রধান কারণ সুইংয়ের সামনে অসহায় ভারতের টপ অর্ডার। বরাবরই শুরুতে এইভাবে বাজিমাত করে এসেছে নিউজিল্যান্ড। ২০১৯ বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল এবং ২০২১ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতের টপ অর্ডারকে শেষ করে দেন ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদি এবং ম্যাট হেনরির ত্রয়ী।

পাওয়ার প্লেতেই ফিরে যান রোহিত শর্মা, কেএল রাহুল এবং বিরাট কোহলি। ব্যাটিং বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি টিম ইন্ডিয়া।

দ্বিতীয়ত, ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তন এবং শৃঙ্খলাপরায়ন ক্রিকেট খেলার অক্ষমতা। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের থেকে বরাবর নিউজিল্যান্ড টিমগেমে বিশ্বাসী। ২০১৬ টি-২০ বিশ্বকাপে নাগপুরের টার্নিং পিচে ভারতকে হারায় কিউয়িরা।

প্রথমে ব্যাট করে ১২৭ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু মাত্র ৭৯ রানে শেষ করে দেয় ভারতের ইমিংস। বল হাতে পার্থক্য গড়ে দেন মিচেল স্যান্টনার এবং ইশ সোধি।

তৃতীয়ত, নকআউট মিথ থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যর্থ ভারত। দীর্ঘদিন ধরে হাইভোল্টেজ ম্যাচে স্নায়ুর লড়াইয়ে টিম ইন্ডিয়াকে টেক্কা দেয় নিউজিল্যান্ড। ২০০০ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর থেকে ২০২৩ বিশ্বকাপ পর্যন্ত আইসিসি ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারেনি ভারত।

একদিনের বিশ্বকাপে সেই গাঁট ভাঙেন রোহিত শর্মারা। কিন্তু ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপ হাতছাড়া হয়। আগের ভারতীয় দলের থেকে সূর্যকুমার যাদবরা কীভাবে আলাদা?

আগের পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গিয়েছে। বাইশ গজে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হতে আরও বেশি প্রস্তুত সূর্যকুমাররা। আগ্রাসন দিয়ে দলের ছোটখাটো ভুলভ্রান্তিগুলো ঢেকে ফেলতে সক্ষম হয়েছে গৌতম গম্ভীরের দল।

আগে রক্ষণাত্মক ক্রিকেটের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের সুইং বোলারদের শুরুতেই অতিরিক্ত প্রাধান্য দিয়ে ফেলত ভারতের টপ অর্ডার। কিন্তু বর্তমান দলের টপ অর্ডার আগ্রাসী ক্রিকেট দিয়ে বিপক্ষের বোলারদের লাইন এবং লেন্থ ঘেঁটে দেয়।

মিডল অর্ডারে ফিনিশারদের তালিকা লম্বা। হার্দিক পাণ্ডিয়া, শিবম দুবের মতো ক্রিকেটাররা রয়েছে। শুরুতে উইকেট হারালেও স্কোরিং মোমেন্টাম অব্যাহত থাকে। এর ফলে কোনও একজনের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ পড়ে না। এভাবেই রবিবার নিউজিল্যান্ডকে টেক্কা দিয়ে বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন দেখছে সূর্যের টিম ইন্ডিয়া।