আজকাল ওয়েবডেস্ক: সব রাজপথ আজ এসে মিশবে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে। আহমেদাবাদের সন্ধ্যা লাগা রাস্তায় খেলা করবে আলোর মেলা। গ্যালারিতে উত্তেজনার ঢেউ, মাঠে ইতিহাসের অপেক্ষা। 

মেগা ফাইনালের বেশ কয়েক ঘণ্টা আগে  মাঠের ভিতরে এক অন্যরকম দৃশ্য তৈরি হল। জীবনের সব থেকে বড় রাতের জন্য তৈরি হচ্ছেন অভিষেক শর্মা। আর দূরে দাঁড়িয়ে ছেলের অনুশীলন দেখছেন অভিষেকের বাবা রাজকুমার শর্মা। 

অভিষেকের  ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন আছে, চাপ আছে তাঁর উপরে, তবু চোখে স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামার আগে বাবার সামনে এসে দাঁড়ালেন অভিষেক শর্মা। তিনি ঝুঁকে পড়েন।  বাবার পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন। বাবার প্রাণ ভরা আশীর্বাদে কেটে যাবে সমস্ত দুশ্চিন্তা, দুর্ভাবনা, সব অনিশ্চয়তা। ব্যাট হাতে যে ছেলেটা কয়েক ঘণ্টা পরে  লড়াইয়ে নামবে, তার আগ মুহূর্তে বাবাই তাঁর আশ্রয়। বাবাই তাঁর সবথেকে বড় গুরু। 

বিশ্বকাপে সময়টা কঠিন যাচ্ছে অভিষেকের। রান আসেনি ব্যাটে। তবু বাবার হাতের ছোঁয়ায় অদৃশ্য এক শক্তি এসে ভর করে। মনে হয়, এই আশীর্বাদের উষ্ণতাতেই হয়তো কেটে দেবে দুঃসময়ের মেঘ।

মহারণের আগে আহমেদাবাদের মাঠে এই ছোট্ট দৃশ্যটাই সবচেয়ে বড় হয়ে ধরা দিচ্ছে। 

এ কেবল আশীর্বাদ নেওয়া নয়—শৈশব, পরিশ্রম আর বিশ্বাসের কাছে ফিরে যাওয়া। আহমেদাবাদের বিশাল স্টেডিয়ামে ফুটে ওটে এক চিরন্তন, চেনা  ছবি—লড়াইয়ের আগে সন্তানের নীরব শক্তি হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন বাবা। অভিষেক শর্মার বাবা আবার তাঁর ছেলেবেলার কোচ বলছেন, ''ওকে বলে আসি যে আমি এসে গিয়েছি।'' 
  
চশমা ছাড়া স্পষ্ট করে সব দেখতে পান না অভিষেকের বাবা। নেটে অভিষেকের নেওয়া শটগুলো  ছুটে যাচ্ছে মাঠের বিভিন্ন প্রান্তে। সেই শব্দে যেন আলাদা একটা সুর আছে। ব্যাট হাতে অনুশীলনে মগ্ন ভারতের ওপেনার। ভিতরে দাঁড়িয়ে নজর রাখছেন গৌতম গম্ভীর ও সীতাংশু কোটাক।

আর বাউন্ডারি লাইনের ধারে দাঁড়িয়ে আছেন আরেকজন নিঃশব্দে। গভীর চোখে দেখে চলেছেন ছেলের অনুশীলন। ছেলের প্রতিটা শট, প্রতিটা টাইমিং তিনি নজর করে চলেছেন। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখছেন বলটা কোথায় গিয়ে পড়ল, শটটা কতটা নিখুঁত হল। ফর্ম হারানো ছেলের পাশে দাঁড়াচ্ছেন বাবা। বলছেন, ''কাল ও রান পাবে। ভারতও চ্যাম্পিয়ন হবে।'' 

হাসতে হাসতেই বলে চলেছেন, ওই হসপিটালিটি বক্সে বসে খেলা দেখছি। কিন্তু চিরকাল আমি ওর খেলা এই বাউন্ডারি লাইনের পাশে দাঁড়িয়েই দেখে গিয়েছি। বাবার চোখে খেলা করছে বিশ্বাস। ছেলের প্রতি গভীর বিশ্বাস।

নেট প্র্যাকটিস শেষ হতেই সবাই ঘিরে ধরলেন অভিষেককে। আসছিল সেলফির আবদার। হাসিমুখে সেইসব আবদার মেটাচ্ছিলেন অভিষেক।

তার পরে ভিড়, ক্যামেরা, কোলাহল সব পিছনে সরিয়ে দিয়ে বাবা-ছেলের সাক্ষাতের মুহূর্ত চিরদিনের ফ্রেমে জায়গা করে নিল। দু'জনের কথা শুরু হল। ব্যাটের গ্রিপ, বলের লাইন, শটের টাইমিং, চলল ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা। বাবা বলে চলেছেন, শুনছেন ছেলে। একজন বলছেন  আরেকজন বিশ্বাস করে যাচ্ছেন।

এমন মুহূর্ত মনে করিয়ে দেয়—ক্রিকেট কেবল ব্যাট-বলের হিসেব নয়। তার ভেতরে লুকিয়ে থাকে সম্পর্ক, বিশ্বাস আর নীরব অনুপ্রেরণার গল্প।