আজকাল ওয়েবডেস্ক: শূন্য থেকে রেকর্ড। 'ওস্তাদের মার শেষ রাতে,'। এই প্রবাদটি অভিষেক শর্মার জন্য ব্যবহার করলে ভুল হবে না। টি-২০ বিশ্বকাপে দ্রুততম অর্ধশতরানের রেকর্ড। মাত্র ১৮ বলে ৫০। সঙ্গে দোসর সঞ্জু স্যামসন। শুরুটা করলেন অভিষেক, শেষটা সঞ্জু। শেষ তিন ম্যাচে অর্ধশতরানের হ্যাটট্রিক। আহমেদাবাদে ছয়, চারের বন্যা। অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন, ঈশান কিষাণদের ব্যাটে রানের পাহাড়ে ভারত। নির্ধারিত ওভারের শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে টিম ইন্ডিয়ার রান ২৫৫। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টি-২০ ম্যাচে এটাই সর্বোচ্চ রান। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের বিশ্বকাপের ফাইনালে রেকর্ড রান। সূর্যকুমার যাদবের হাতে বিশ্বকাপ ওঠা শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের লাল মাটির পিচে কিউয়ি বোলারদের তুলোধোনা করল ভারতীয় ব্যাটাররা। অনবদ্য ব্যাটিং। জেমস নিশাম ছাড়া নিউজিল্যান্ডের কোনও বোলারই দাঁড়াতে পারেনি। মিচেল স্যান্টনারের ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হল। মেগা ফাইনালে টসে জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠানো সবচেয়ে ভুল সিদ্ধান্ত। সূর্যকুমারদের ম্যাচ উপহার দিলেন স্যান্টনার।
টসেই ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায়। সেমিফাইনালে টসে জিতে হ্যারি ব্রুকের ভারতকে ব্যাট করতে পাঠানোর ভুল সিদ্ধান্ত থেকেও শিক্ষা নেয়নি নিউজিল্যান্ড। প্রথমত, টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটিং গভীরতা। ওপেনিংয়ে দুরন্ত ছন্দে থাকা সঞ্জু স্যামসন। তারওপর নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আদ্যপান্ত ব্যাটিং পিচ। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করে বিপক্ষের ওপর বড় রান চাপিয়ে দিতে পারলে চাপে পড়লেও পড়তে পারত ভারত। চলতি টি-২০ বিশ্বকাপে মাত্র একটি ম্যাচ হেরেছে টিম ইন্ডিয়া। সেটা দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে রান তাড়া করে। টসে জেতায় সেই সুযোগ ছিল কিউয়িদের সামনে। কিন্তু ফায়দা তুলতে পারেনি। তারওপর ভুল স্ট্র্যাটেজি স্যান্টনারের।
প্রথম ওভারে খারাপ বল করেননি ম্যাট হেনরি। ৭ রান দেন। প্রথম চার বলে রান হয়নি। পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকান সঞ্জু। পাওয়ার প্লেতে তাঁকে দ্বিতীয় ওভার দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু জেকব ডাফিকে বল দেন। নিজের প্রথম ওভারে ৫ রান দেন গ্লেন ফিলিপস। কিন্তু তাঁকে আর বলই দেননি স্যান্টনার। পাওয়ার প্লেতে চারজন বোলারকে ব্যবহার করেন। নিজের প্রথম ওভারে ২৪ রান দেন লকি ফার্গুসন। যা ভারতীয় ওপেনারদের সেট হতে সাহায্য করে। বিশেষ করে অভিষেকের। তবে কোনওভাবেই ভারতীয় ব্যাটারদের কৃতিত্বকে খাটো করা যাবে না। দুরন্ত টপ থ্রি। শূন্যের হ্যাটট্রিক, ৭ ইনিংসে মাত্র ৮০। টি-২০ বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে অভিষেককে বাদ দেওয়ার দাবি তোলেন ক্রিকেট পণ্ডিতরা। কিন্তু বাঁ হাতি ওপেনারের ওপর আস্থা রাখে ভারতীয় থিঙ্কট্যাঙ্ক। ভরসার মর্যাদা রাখলেন অভিষেক।
একমাত্র জিম্বাবোয়ে ম্যাচে অর্ধশতরান ছিল। বাকি পুরো ফ্লপ। আগের দিন আহমেদাবাদে পৌঁছন অভিষেকের বাবা। পরিবারের উপস্থিতিতে আপাদমস্তক বদলে গেলেন। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে চলতি টি-২০ বিশ্বকাপে দ্রুততম অর্ধশতরানের রেকর্ড। মাত্র ১৮ বলে ৫০ রানে পৌঁছে যান। এর আগে ১৯ বলে অর্ধশতরান ছিল আইডেন মার্করামের। শেষপর্যন্ত ৩টি ছয়, ৬টি চারের সাহায্যে ২১ বলে ৫২ রান করে আউট হন। পাওয়ার প্লের পূর্ণ ফায়দা তোলে ভারত। প্রথম ৪ ওভারেই ৫০ রানে পৌঁছে যায় টিম ইন্ডিয়া। ওপেনিং জুটিতে ৯৮ রান। রানে ফেরেন অভিষেক। লকি ফার্গুসনের প্রথম ওভারে ২৪ রান হয়। পাওয়ার প্লের শেষে বিনা উইকেট হারিয়ে ভারতের রান ছিল ৯২। ভারতের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে একটা সময় চোখে সর্ষেফুল দেখে কিউয়ি বোলাররা। মাত্র ১৮ বলে অর্ধশতরানে পৌঁছে যান অভিষেক। ইনিংসে ছিল ৩টি ছয়, ৬টি চার।
অন্যপ্রান্তে অনবদ্য সঞ্জু। তবে আবারও শতরান হাতছাড়া করলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ডের পর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে শতরানের দোরগোড়ায় ফেরেন। তবে নিজের কাজ করে যান। যদিও এদিন শুরুতে তাণ্ডব শুরু করেননি স্যামসন। অভিষেক ঝড়ের সময় অ্যাঙ্করের ভূমিকা পালন করেন। ৩৩ বলে ৫০ রান পূর্ণ করেন সঞ্জু। অভিষেক আউট হওয়ার পর রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন। ৮টি ছয়, ৫টি চারের সাহায্যে ৪৬ বলে ৮৯ রান করে আউট হন। নিশামের ফুল টসে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন। তবে উইকেটের অন্যদিকে মারমুখী মেজাজে ছিলেন ঈশান কিষাণও। আরও একটি দুর্দান্ত ইনিংস পকেট সাইজ রকেটের। ২৩ বলে ৫০ রান করেন। সঞ্জু স্যামসন এবং ঈশান কিষাণের মধ্যে ১০৫ রানের পার্টনারশিপ।

১৫ ওভারে ২০০ রানের গণ্ডি পার করে ভারত। ২ উইকেটে ২০৩ রান ছিল টিম ইন্ডিয়ার। কিন্তু জিমি নিশামের ওভারে আচমকা পতন। এক ওভারে তিন উইকেট হারায় ভারত। পরপর ফিরে যান সঞ্জু স্যামসন, ঈশান কিষাণ এবং সূর্যকুমার যাদব। মাত্র ১ রানে ৩ উইকেট হারায়। যেভাবে খেলছিল ভারত, অনায়াসেই ২৭০-২৭৫ রান হতে পারত। কিন্তু শেষ পাঁচ ওভারে দারুণভাবে ম্যাচে ফেরে নিউজিল্যান্ড। প্রথম বলেই শূন্যতে ফেরেন সূর্য। এদিন ছন্দে ছিলেন না হার্দিক পাণ্ডিয়াও। কিন্তু শেষ ওভারে দলকে আড়াইশো রানের গণ্ডি পার করার শিবম দুবে। শেষ ওভারে ২৪ রান। নিউজিল্যান্ডের কফিনে শেষ পেরেক পোঁতেন দুবে। ৮ বলে ২৬ রানে অপরাজিত। ইনিংসে ছিল ২টি ছয়, ৩টি চার।
