আজকাল ওয়েবডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ভারতের বড় পরাজয়ের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায় ক্রিকেট মহলে।

তবে এই হারে প্রোটিয়াদের চেয়েও বেশি আনন্দ পেতে দেখা গিয়েছে পাকিস্তানের প্রাক্তন পেসার মহম্মদ আমিরকে। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল ভীষণ হতাশাজনক ব্যাটিং করে।

দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের ভ্যারিয়েশনের সামনে কার্যত আত্মসমর্পণ করেন স্কাইরা। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ভারত ১৮.৫ ওভারে মাত্র ১১১ রানে অলআউট হয়ে যায়।

এটি আইসিসি প্রতিযোগিতায় সব ফরম্যাট মিলিয়ে ভারতের টানা ১৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর প্রথম হার। এর আগে এই একই ভেন্যুতে ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরেছিল ভারত।

উল্লেখ্য, সুপার এইট শুরুর আগে প্রাক্তন পাক পেসার মহম্মদ আমির ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, ভারত টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠতে পারবে না। তিনি ভারতের তরুণ ওপেনার অভিষেক শর্মা-কে ‘স্লগার’ বলেও কটাক্ষ করেছিলেন।

বিশ্বকাপে অভিষেকের পারফরম্যান্সও খুব একটা ভাল নয়। ভারতের এই লজ্জাজনক হারের পর পাকিস্তানের একটি টিভি চ্যানেল আমিরকে ‘জ্যোতিষী’ বলে অভিহিত করে।

লাহোরের স্টুডিও থেকে সম্প্রচারিত একটি অনুষ্ঠানে সঞ্চালক বলেন, ‘যা আমাদের ক্রিকেট দল করতে পারছে না, স্টুডিওতে বসে আমাদের প্যানেলিস্টরা তা করে দেখাচ্ছেন। আমির প্রথমে অভিষেককে স্লগার বলেছিলেন, তারপর থেকেই ও রান পাচ্ছে না। এরপর তিনি বলেন ভারত সেমিফাইনালে উঠবে না, মনে হচ্ছে ভারত আমিরের কথা শুনেই চলছে।’

এই মন্তব্য শুনে হেসে ফেলেন আমির। তিনি মজার ছলে বলেন, ‘আমাকে কী বানিয়ে ফেলেছেন? আল্লাহ মাফ করুক!’ উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে এই পরাজয়ে ভারতের নেট রান রেট মারাত্মকভাবে কমে (-৩.৮০০) গিয়েছে।

ফলে শেষ চারে উঠতে হলে এখন তাদের বাকি দুই ম্যাচে জিততেই হবে। ২৬ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে এবং ১ মার্চ কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে নামবে টিম ইন্ডিয়া। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে।

এই রান রেট কিন্তু শূর্যকুমার যাদবদের শেষ চারে ওঠার পথ কঠিন করে তুলতে পারে। সুপার এইটের আটটি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। 

চারটি দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট পাওয়া দু'টি দল শেষ চারের ছাড়পত্র জোগাড় করবে। একাধিক দলের পয়েন্ট সমান হলে, যে দল বেশি ম্যাচ জিতেছে, তারাই উপরে থাকবে। 

পয়েন্ট আর জয় যদি সমান সমান হয়, তাহলে বিচার্য হবে নেট রানরেট। নেট রান রেটও যদি সমান হয়, তখন মুখোমুখি সাক্ষাতের ফলাফল বিচার্য হবে।