আজকাল ওয়েবডেস্ক: রবিবার রাতের বিধ্বংসী হারের পর কার্যত ‘প্যান্ডোরা বক্স’ খুলে গিয়েছে ভারতের শিবিরে। এর আগে পর্যন্ত চলতি আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতকে ফেভারিট বলেই মনে করা হচ্ছিল।

কিন্তু এক ম্যাচেই ছবিটা আমূল বদলে গেছে। হঠাৎ করেই ব্যাটিং বিভাগে অত্যন্ত দুর্বল দেখাচ্ছে বিশ্বের এক নম্বর দলকে। সমর্থকদের মনেও ঢুকে পড়েছে শঙ্কা, ফের কি তাহলে দুঃস্বপ্ন দেখা দিতে চলেছে?

ভারতের ব্যাটিং বিপর্যয়ের কেন্দ্রে রয়েছেন অভিষেক শর্মা ও তিলক ভার্মা। গ্রুপ পর্বে পেটের সমস্যার কারণে অভিষেক খেলতে না পারায় একটি ম্যাচে সুযোগ পেয়েছিলেন সঞ্জু স্যামসন।

কিন্তু তিনি একাদশে ফিরলে স্যামসনের নাম আর আলোচনায় আসবে না বলেই মনে করা হচ্ছিল। তবে ৭৬ রানের বড় পরাজয়ের পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। ভারতের টপ অর্ডারে পরপর তিন বাঁ-হাতি ব্যাটার ঈশান কিষাণ, অভিষেক ও তিলক পাওয়ার প্লে-র মধ্যেই আউট হয়ে যাচ্ছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ম্যাচে কিষাণ আউট হন অফ-স্পিনার এইডেন মার্করামের বলে। তিনি যদিও প্রথম সারির বোলার নন, পার্ট টাইম অফ-স্পিনার।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও প্রথম ওভারেই অফ-স্পিনার সালমান আলি আগার শিকার হয়েছিলেন অভিষেক। ফলে প্রশ্ন উঠছে, অভিষেক শর্মাকে আটকাতে প্রতিপক্ষ বোলাররা কি আগে থেকেই পরিকল্পনা ঠিক করে নিচ্ছেন?

প্রতি ম্যাচেই অফ স্পিনারকে লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ডানহাতি স্যামসনকে ফিরিয়ে এনে লেফট-রাইট কম্বিনেশন তৈরি করা উচিত কি না, তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভারতের সহকারী কোচ রায়ান টেন ডেসকটে স্বীকার করেছেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে নামার আগে দল এই নিয়ে আলোচনা করবে।

টেন ডেসকটে বলেন, ‘গত পাঁচ ম্যাচে চারটি দল পার্ট-টাইম অফ-স্পিন দিয়ে ইনিংস শুরু করেছে এবং প্রায় প্রতি ম্যাচেই আমরা শুরুতেই উইকেট হারিয়েছি। শূন্য বা এক-দুই রানে এক উইকেট পড়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই মিডল অর্ডারের উপর চাপ পড়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিলক ও স্কাইয়ের ভূমিকা হল ইনিংস গড়ে তোলা এবং শেষের দিকের ব্যাটারদের সঙ্গে পার্টনারশিপ তৈরি করা। কিন্তু সেটা একেবারেই হচ্ছে না। দলে অনেক তরুণ ক্রিকেটার আছে। আমরা একটা ব্যালেন্সড একাদশ চাই। গত দেড় বছরে যারা ভাল পারফর্ম করেছে, তাদের ওপর কি ভরসা রাখব? নাকি স্যামসনকে ফিরিয়ে এনে ভারসাম্য আনব, এই বিষয়টি আগামী কয়েক দিনে বড় আলোচনার বিষয় হবে।’

ভারতের সামনে এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি ম্যাচ। সেমিফাইনালে উঠতে হলে ভুলের সুযোগ নেই বললেই চলে।