আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তান সুপার লিগ নিয়ে বড়সড় কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশের ট্রোলিংয়ের মুখে পড়ল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় কোনও জাহাজই তা পেরিয়ে আসতে পারছে। এই পরিস্থিতি থেকে রেহাই পায়নি পাকিস্তানও।

ফলে, জ্বালানি সঙ্কটের কারণে চলতি বছরের টুর্নামেন্টে কাটছাঁট করতে বাধ্য হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। রবিবার পিসিবি ঘোষণা করে, এবারের পাকিস্তান সুপার লিগে ভেন্যুর সংখ্যা ছ’টি থেকে কমিয়ে মাত্র দু’টিতে আনা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, খরচ কমানোর লক্ষ্যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে এবং দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাপী তেল সঙ্কটের পাশাপাশি একাধিক ক্রিকেটার সরে যাওয়ায়ও বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে পিএসএল।

ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার আইপিএলে চোটের বিকল্প হিসেবে যোগ দিতে পিএসএল ছেড়েছেন। এই পরিস্থিতিকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় মজার প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে।

অনেকেই পিএসএলকে কটাক্ষ করে পাকিস্তান সুপার লিগের বদলে ‘পেট্রল শর্টেজ লিগ’ নামে অভিহিত করছেন। উল্লেখ্য, এবার পিএসএল সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে আইপিএলের সঙ্গে।

কারণ, চলতি বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কারণে নির্ধারিত সময়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, ব্লেসিং মুজারাবানি এবং শ্রীলঙ্কার দাসুন শানাকার মতো ক্রিকেটাররা পিএসএল ছেড়ে আইপিএলে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্থিক দিক থেকে আইপিএল অনেক বেশি লাভজনক হওয়ায় ক্রিকেটারদের এই সিদ্ধান্ত অস্বাভাবিক নয়।

খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সঙ্কটের জেরে বড়সড় পরিবর্তনের মুখে পড়তে চলেছে পাকিস্তান সুপার লিগ। আগে যেখানে মুলতান, পেশোয়ার, ফয়সালাবাদ, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি ও লাহোর এই ছ’টি শহরে টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল, এখন তা সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে শুধু করাচি এবং লাহোরে।

এছাড়া, সমস্ত ম্যাচই দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে পিসিবি। পাশাপাশি, ব্যয় কমাতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়েছে। চলতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট-ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পাকিস্তানে তীব্র জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের ওপর একাধিক বিধিনিষেধ, স্কুল বন্ধ রাখা এবং ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই পিএসএল অনুষ্ঠিত হবে।