আজকাল ওয়েবডেস্ক: গুজরাট টাইটান্সের পঞ্চম ওভারের ঘটনা। দিল্লি ক্যাপিটালসের পেসার মুকেশ কুমারের ওভারের পঞ্চম বলটি কাভারের উপর দিয়ে অনায়াস ভঙ্গিতে গ্যালারিতে পাঠালেন জস বাটলার। এই ছক্কাতেই ইতিহাসের এক বিশেষ অধ্যায়ে নিজের নাম লিখে ফেললেন ইংল্যান্ডের এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান।
গুজরাট-দিল্লি ম্যাচে নামার আগে বাটলারের টি-টোয়েন্টি কেরিয়ারে ছক্কার সংখ্যা ছিল ৫৯৫। তবে ক্রিজে নেমেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ম্যাচের গতি পাল্টে দেন তিনি।
মাত্র ২৭ বলে ৫২ রানের ইনিংসে চারের চেয়ে ছক্কাই ছিল বেশি। পাঁচ-পাঁচটি ছক্কা মারেন তিনি। সেই পঞ্চম ছক্কাটিই বাটলারকে পৌঁছে দেয় ৬০০ ছক্কার অনন্য মাইলফলকে।
এই ইনিংসেই পাওয়ারপ্লের ভিতরে ৫টি ছক্কা হাঁকিয়ে বাটলার গড়েন আরেকটি নজির। আইপিএলের ইতিহাসে ওপেনার ছাড়া তিন নম্বরে নেমে প্রথম ৬ ওভারের মধ্যে অন্তত ৫টি ছক্কা মারার কীর্তি এতদিন একাই ছিল সুরেশ রায়নার দখলে।
২০১৪ সালের আইপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে তিনি ৬টি ছক্কা মেরেছিলেন। দীর্ঘদিন পর সেই বিরল তালিকায় যোগ হলো বাটলারের নাম।
তবে এই ইনিংসের আসল গল্প আরও গভীরে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছক্কার রাজত্ব দীর্ঘদিন ধরেই ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানদের দখলে।
অন্তত ৬০০ ছক্কার ক্লাবে এতদিন ছিলেন কেবল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররাই। সেই একচেটিয়া আধিপত্যে প্রথমবারের মতো ভাঙন ধরালেন বাটলার।
ছক্কার পরিসংখ্যানে এখনও শীর্ষে রয়েছেন ক্রিস গেইল। ৪৫৫ ইনিংসে তাঁর ১০৫৬টি ছক্কা এক অনন্য রেকর্ড।
তাঁর পরেই রয়েছেন কাইরন পোলার্ড (৯৮২), আন্দ্রে রাসেল (৭৮৪) এবং নিকোলাস পুরান (৭১২)। এই চারজনই ক্যারিবিয়ান, এবং গেইলই একমাত্র ব্যাটসম্যান যিনি এক হাজার ছক্কার মাইলফলক ছুঁয়েছেন।
এই এলিট তালিকায় নতুন নাম জস বাটলার। ৪৬৭ ইনিংসে ৬০০ ছক্কা পূর্ণ করা এই তারকা এখন পঞ্চম স্থানে।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেও ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ছক্কার মালিক বাটলার। ১৪৩ ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ১৭৫ ছক্কা। এই তালিকার শীর্ষে আছেন গেইল, ১৪১ ইনিংসে ৩৫৭টি ছক্কা মারেন।
বাটলারের ঠিক পরেই রয়েছেন অ্যালেক্স হেলস। যিনি ছক্কা মেরেছেন ৫৯৫টি। দ্রুতই ৬০০ ছক্কার ক্লাব আরও সমৃদ্ধ হতে পারে।
চলতি আইপিএলে তিন ইনিংসে বাটলার করেছেন ১১৬ রান। ২০২৬ সালে সব ধরনের টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ১৯ ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ৪২২ রান। রয়েছে দু'টি পঞ্চাশ। একটি ছক্কা শুধু স্কোরবোর্ডে ছ'রান যোগ করেনি। বদলে দিয়েছে একটি পরিসংখ্যানের ইতিহাসও।
















