আজকাল ওয়েবডেস্ক: চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে আয়ারল্যান্ড সফরে যাওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সূচিতে আসতে পারে বড় পরিবর্তন। একই সময়ে ঘরের মাঠে ভারতের বিরুদ্ধে একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিসিবির এক কর্মকর্তা ক্রিকেট সংক্রান্ত একটি ওয়েবসাইটকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আসলে ২০১৫ সালে স্থগিত হয়ে যাওয়া ভারত সিরিজটিই নতুন করে আয়োজন করতে চায় বিসিবি। প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৮ আগস্ট বাংলাদেশে পৌঁছনোর কথা রয়েছে ভারতীয় দলের। সফরে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।
পরিকল্পিত সূচি অনুযায়ী, ওয়ানডে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর। এরপর ৯, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এই গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ আয়োজনের লক্ষ্যেই আয়ারল্যান্ড সফরটি পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানায় বিসিবি। তবে আয়ারল্যান্ডের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির কারণে ২০২৬ সালের মধ্যে নতুন সময় নির্ধারণ সম্ভব হয়নি। ফলে আপাতত সফরটি স্থগিত রাখা হয়েছে।
বিসিবির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিকল্প সময় খোঁজার চেষ্টা করা হলেও, তা সম্ভব হয়নি। তবে ২০২৭ সালে নতুন করে এই সিরিজ আয়োজনের আশা করা হচ্ছে।
এদিকে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে ৭৯ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে নবম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারানোর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পেছনে ফেলে এক ধাপ এগিয়েছে দলটি। প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের অধীনে দলটি ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছে।
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা করে নিতে হলে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটে ওঠা জরুরি। আয়ারল্যান্ড সফর স্থগিত হওয়ায় এখন ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজগুলো বাংলাদেশের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবোয়ে সফরও নির্ধারণ করে দেবে দলের ভবিষ্যৎ অবস্থান।
তবে সব পরিকল্পনার মাঝেই রয়েছে অনিশ্চয়তার ছায়া। সেপ্টেম্বরের ভারত সিরিজটি এখনও পুরোপুরি চূড়ান্ত নয়। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন এখনও মেলেনি। যদি কোনও কারণে এই সিরিজটিও স্থগিত হয়ে যায়, তবে বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণের লড়াইয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ। কারণ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সুযোগ তখন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
