আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন জর্ডন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলি বিন আল হুসেইন। ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে সমর্থন করলে জর্ডনের ফুটবল সমস্যাগুলি সমাধানে ফিফা সাহায্য করবে,এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। পুরো ঘটনাকে ‘ব্ল্যাকমেল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন আলি।
মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জর্ডন ফুটবল প্রধান বলেন, বিশ্বকাপ চলাকালীন তাঁকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছিল যে, তিনি যদি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানান, তাহলে তা জর্ডন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সমস্যাগুলি সমাধানে বড় ভূমিকা রাখবে।
আলি লেখেন, “জর্ডনে আমরা নৈতিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিই। আমরা আগে তাঁকে সমর্থন করিনি, এখনও করব না। পুরো বিষয়টি ব্ল্যাকমেলের মতো এবং আমরা এর কাছে মাথা নত করব না।”
জর্ডনের ফুটবল নিয়ে একাধিক সমস্যার কথাও তুলে ধরেছেন আলি। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের পরও সমর্থকদের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, অনেক জর্ডনীয় সমর্থক ম্যাচের টিকিট কেনার পরও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি। আর যারা মাঠে উপস্থিত হতে পেরেছেন, তাঁদের ‘অতিরিক্ত বেশি’ টিকিট মূল্য দিতে হয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে দলের শিবির হওয়ায় বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য জর্ডনকে বড় অঙ্কের কর দিতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আলির বক্তব্য, “ফিফার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরকার আমাদের কাছ থেকে কর নিচ্ছে। এই অর্থ খেলোয়াড় ও দলের কর্মীদের জন্য ব্যবহার করা যেত।”
জর্ডন ফুটবল প্রধান আরও অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের কাতার আরব কাপের ফাইনালে ওঠার পর প্রাপ্য অর্থ এখনও পায়নি তাঁদের দল। তিনি বলেন, “ফিফা একদিকে নিজেদের ভাণ্ডারে থাকা বিলিয়ন ডলারের কথা প্রচার করছে, অন্যদিকে ফাইনালে ওঠার জন্য আমাদের দলের প্রাপ্য অর্থ এখনও দেওয়া হয়নি।”
আলি বিন আল হুসেইনের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো নিজেই সমালোচনার মুখে রয়েছেন। ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক বিরোধিতার মুখে পড়ার পর সেই প্রস্তাব থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় ফিফা।
ফিফার দাবি ছিল, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে ফুটবল উন্নয়নের জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। তবে একাধিক সদস্য সংস্থা ও ফুটবল প্রশাসকের বিরোধিতার কারণে বিষয়টি আরও বিতর্ক তৈরি করে।
২০২৭ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচনের আগে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে। আলি বিন আল হুসেইনের অভিযোগ সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল এবং ফিফার প্রশাসনিক সংকট আরও গভীর করল।
















