আজকাল ওয়েবডেস্ক: পঞ্চম টি-২০ তে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিল টিম ইন্ডিয়া। ধুন্ধুমার ব্যাটিং ঈশান কিষাণের। সঙ্গে যোগ দেন সূর্যকুমার যাদব এবং হার্দিক পাণ্ডিয়া। ভারতীয় ত্রয়ীর ব্যাটে ভর করে সিরিজ ৪-১ এ জিতল ভারত। ২০ ওভারে ৫ উইকেটের বিনিময়ে ২৭১ রান তোলে টিম ইন্ডিয়া। জবাবে ১৯.৪ ওভারে ২২৫ রানে শেষ হয় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। ৪৬ রানে জয় ভারতের। প্রত্যাবর্তনেই দুর্ধর্ষ ভারতীয় উইকেটকিপার ব্যাটার। টি-২০ ক্রিকেটে নিজের প্রথম শতরান তুলেন নেন ঈশান কিষাণ। সঞ্জুর মঞ্চে বাজিমাত ঈশানের। ছক্কার বন্যা বইয়ে দেন। ৪২ বলে একশো রানে পৌঁছন। ৪৩ বলে ১০৩ রান করে আউট হন। বিধ্বংসী ইনিংসে ছিল ১০টি ছয় এবং ৬টি চার। বিশ্বকাপের প্রাক্কালে টিম ম্যানেজমেন্টের সমস্যা অনেকটাই কমিয়ে দিলেন ঈশান কিষাণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ওপেনিংয়ে অভিষেকের সঙ্গে তাঁকে দেখা গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তিরুঅনন্তপুরমে নিজের ঘরের মাঠেও ব্যর্থ সঞ্জু স্যামসন। ৬ রানে আউট হন। এদিন অগ্নিপরীক্ষা ছিল কেরলের তারকার। কিন্তু ডাহা ব্যর্থ। ফলে শনি রাতে উইকেটকিপিং করার সুযোগ খোয়ান। গ্লাভস হাতে দেখা যায় ঈশানকে। বিশ্বকাপের আগে যা বড় ইঙ্গিত। 
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ছক্কার বিশ্বরেকর্ডও গড়ল ভারত। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে রেকর্ড গড়ে ফেলে ভারত।  

পাঁচ ম্যাচের সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ২৭১ রানের পাহাড় গড়ে ভারত। ৪৩ বলে ৬টি চার আর ১০টি ছক্কায় ১০৩ রান করেন ঈশান কিষাণ। টি-টোয়েন্টিতে এটা প্রথম সেঞ্চুরি ঈষান কিষানের। তাণ্ডবলীলা চালালেন তিনি। 

অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও ৩০ বলে চারটি চার ও ছ'টি ছক্কায় ৬৩ রান করেন। মাত্র ১৭ বলে ৪৩ রানের ধ্বংসলীলা চালান হার্দিক পাণ্ডিয়া।  একটি চার আর ৪টি ছক্কা হাঁকান তিনি।  

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারত মোট ৬৯টি ছক্কা মেরেছে। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে যা বিশ্বরেকর্ড।

২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ড ৬৪টি ছক্কা মেরে রেকর্ড গড়েছিল। ভারত সেই রেকর্ড ভেঙে দিল। 

এক ইনিংসেই ভারত মোট ২৩টি ছক্কা মেরেছে। এর আগে ২০২৪ সালে ভারতের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা ২৩টি ছক্কা মেরেছিল। 

ল হাতে দুর্ধর্ষ অর্শদীপ সিং। তুলে নেন পাঁচ উইকেট। বিশাল রান তাড়া করতে নেমে একমাত্র ফিন অ্যালেন ছাড়া বাকিরা ব্যর্থ। ৩৮ বলে ৮০ রানে আউট হন কিউয়ি ব্যাটার। কিছুটা চেষ্টা করেন রচিন‌ রবীন্দ্র (৩০) এবং‌ ড্যারেল মিচেল (২৬)। কিন্তু নিয়মিত উইকেট হারানোয় এত বড় রান তাড়া করে জেতা সম্ভব ছিল না নিউজিল্যান্ডের। শুরুতেই টিম সেইফার্টের উইকেট হারালেও দ্বিতীয় উইকেটে ১০০ রান যোগ করেন অ্যালেন এবং রচিন‌। অষ্টম ওভারে একশোর গণ্ডি পার করে কিউয়িরা। তখনও পর্যন্ত প্রবলভাবে লড়াইয়ে ছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু ফিন আউট হতেই আশা শেষ মিচেল স্যান্টনারদের। প্রত্যাবর্তনে সফল অক্ষর প্যাটেল। নেন তিন উইকেট। এদিন ছয়ের বন্যা বয়ে যায়। মোট ৩৬টি ছয় মারে দুই দলের ক্রিকেটাররা। একটি টি-২০ ম্যাচে যা সর্বোচ্চ। দুর্দান্ত ফিল্ডিং রিঙ্কু সিংয়ের। বল হাতেও এক উইকেট তুলে নেন।